1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. mahir1309@gmail.com : star mail24 : star mail24
  3. sayeed.fx@gmail.com : sayeed : Md Sayeed
  4. newsstarmail@gmail.com : Star Mail : Star Mail
সাময়িক বরখাস্ত হলেন ফরিদপুরের গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান | Starmail24




সাময়িক বরখাস্ত হলেন ফরিদপুরের গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান

স্টার মেইল, ফরিদপুর
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২০ মে, ২০২০

অসহায় ও দুস্থদের জন্য সরকারের খাদ্য কর্মসূচির চাল চুরি, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইনামুল হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে কেন চেয়ারম্যান পদ থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। কারণ দর্শানোর এই নোটিশের জবাব আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ইউনিয়ন পরিষদ-১ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইনামুল হাসানের বিরুদ্ধে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর দেওয়ার নামে টাকা আদায়, এলজিএসপি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে তাকে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ইনামুল হাসান যেসব অপরাধমূরক কাজ করেছেন তাতে ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমীচীন নয়। তাই সরকার তাকে সাময়িক বরাখাস্ত করেছে।

এর আগে গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখেছে ফরিদপুর জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগ। তদন্তে তারা অভিযোগের সত্যতা পেলে স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকারকে সুপারিশ করা হয়। সেই প্রেক্ষিতেই তাকে শাস্তিসরূপ সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইনামুল হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রবীণদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। টিআর, কাবিখা প্রকল্পসহ দুস্থ ও অসহায়দের জন্য সরকার চাল, ভাতা বরাদ্দ এবং বিতরণেও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

যেসব অভিযোগে বরখাস্ত ইউপি চেয়ারম্যান ইনামুল: স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইনামুল হাসানের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে ফরিদপুর জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগ। তদন্তে বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া: ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় মহল্লাদার বা চৌকিদার নিয়োগ স্থায়ী করার নামে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। ইউনিয়নের বাজড়া গ্রামের এক নারীর অভিযোগ মহল্লাদার বা চৌকিদার পদে তার চাকরি স্থায়ী করার কথা বলে ইনামুল হাসান তার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন। অথচ তার চাকরি স্থায়ী করা হয়নি। এছাড়া বিভিন্ন সময় তাকে কু-প্রস্তাব দেওয়া ও অশালীন আচরণের অভিযোগও এনেছেন ওই নারী।

আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের নামে টাকা নেওয়া: প্রকল্পের আওতায় ঘর বরাদ্দ দেওয়ার নাম করে স্থানীয়দের কাছ থেকে ১২ থেকে ২০ হাজার করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। মো. রাকিবুজ্জামানের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেন চেয়ারম্যান। রাকিবুজ্জামান একজন ভ্যান চালক। তিনি ভ্যান বিক্রি করে এই টাকা দিয়েছিলেন। টাকা দিলেও তিনি কোনো ঘর পাননি। এমনকি টাকাও ফেরত পায়নি। ঘরের জন্য টাকা দেওয়াদের তালিকায় যারা ছিলেন তাদের প্রায় সবার ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটেছে। তারা টাকা ফেরত চাইলে উল্টো হুমকি-ধমকির শিকার হয়েছেন।

এলজিএসপির বরাদ্দ বিতরণে ভয়াবহ অনিয়ম, লুট: স্থানীয় সরকারের এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় দুস্থদের জন্য সেলাই মেশিন, নলকূপ ও রিং স্লাব বিতরণেও বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের যে তালিকা করা হয়েছে, সেই তালিকায় নাম থাকলেও সেলাই মেশিন ,নলকূপ বা রিং স্লাব কিছুই পাননি এমন নজির পাওয়া গেছে। এসব বরাদ্দ চেয়ারম্যান আত্মসাৎ করেছেন বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে বিস্তর হরিলুট: অসহায় ও দুস্থদের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতেও হরিলুটের প্রমাণ মিলেছে তদন্তে। এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের যে তালিকা করা হয়েছে সেখানেও মিলেছে অনিয়মের ছাপ। আবার তালিকায় নাম থাকলেও চাল বা বরাদ্দ পাননি এমন উদাহরণও ভুরিভুরি।

খেয়াঘাটের মাঝিকে মারধর: নিয়ম ভেঙে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় খেয়াঘাট ইজারা দিয়ে উৎকোচ নেওয়া ও রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। পরে তার পছন্দের ব্যক্তির ইজারা বাতিল করে উপজেলা প্রশাসন থেকে নতুন ব্যক্তিতে খাস কালেকশনের ভিত্তিতে ঘাটের দায়িত্ব দেন। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইনামুল হাসান স্থানীয় প্রশাসন নির্ধারিত মাঝিকে মারধর করেন। ওই ঘটনায় মাঝি ওবায়দুর রহমান গত ৩০ এপ্রিল চেয়ারম্যান ইনামুল হাসানের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ডায়েরি নম্বর-১১৬৮।

ইউপির সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ: বিগত সময়ে গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে ১৩ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হলেও এই টাকার রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হয়নি। চেয়ারম্যান ইনামুল হাসান তার কাছে এই টাকা রেখেছেন। এছাড়া পরিষদের আয়ব্যয়ের হিসাবেও আছে চরম অস্বচ্ছতা। এর কোনো সুষ্ঠু হিসাব পরিষদে নেই। চেয়ারম্যান সরকারি রাজস্বের এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল: চেয়ারম্যানের দুর্নীতি, অনিয়ম, অত্যাচারে ও প্রবীণদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে গত ৩১ জানুয়ারি ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ করেন। জনগণের ওই ক্ষোভ বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও ইনামুল হাসান নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন সনদসহ যে কোন কাগজে স্বাক্ষর আনতে গেলে জনগণের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি টাকা ছাড়া কোথাও স্বাক্ষর করেন না। এই অভিযোগেরও সত্যতা মিলেছে।




এই বিভাগের আরো সংবাদ