13/11/2019 , ঢাকা

‘সসম্মানে’ চলে যান, জাবি ভিসিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা


প্রকাশিত: 13/11/2019 05:38:29| আপডেট:

স্টার মেইল, জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে ‘সম্মান’ নিয়ে দ্রুত পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অধ্যাপক ফারজানা কোনো দাবির মুখে পদত্যাগ না করার ঘোষণা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে এক মিছিল শেষে সমাবেশে তার উদ্দেশে এই আহ্বান জানানো হয়। উপাচার্য পদত্যাগ না করলে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে হটানোর হুমকিও দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বুধবার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর উপাচার্য ফারজানাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের জন্য ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করছে আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’।

তার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই মিছিল সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ থেকে শুরু হয়ে পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’র মুখপাত্র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, “উপাচার্য উন্নয়ন প্রকল্পকে ব্যবসাক্ষেত্রে পরিণত করেছেন। তাই নৈতিক স্খলন হওয়ায় তার পদত্যাগ চেয়েছি। উপাচার্যের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তার বিচার রাষ্ট্রীয় আইনে চাই।”

তিনি বলেন, আসন্ন ভর্তি পরীক্ষার সময় উপাচার্যকে সব ভবনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। কারণ এই অভিযোগ উঠার পরে আমাদের কর্মস্থলে আর উপাচার্যকে দেখতে চাই না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন গত মাসে। এর মধ্যেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে উপাচার্য ফারজানার কাছে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই দুজনকে সরতে হলেও তারা অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো অধ্যাপক ফারজানার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাদের তিনি অর্থ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার ভেস্তে যাওয়ার পর উপাচার্য ফারজানা বুধবার বলেছিলেন, কারও দাবির মুখে তিনি পদত্যাগ করবেন না, রাষ্ট্রপতি নির্দেশ না দিলে তা করতে পারেন তিনি।

সমাবেশে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তসলিমা সুলতানা বলেন, এমন গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পরে আর কোনোভাবেই তিনি এমন সম্মানীয় পদে থাকতে পারেন না।

উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, আমরা সরাসরি কখনও বলিনি আপনি দুর্নীতিবাজ, তবে আপনার কার্যক্রমের মাধ্যমে আপনি সেটা প্রমাণ করছেন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আপনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে এই অভিযোগ ফৌজদারি আইনে বিচার হওয়ার যোগ্য। যার সাথে আপনার সম্পৃক্ততা থাকলে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।

সমাবেশে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলেছি ছাত্রলীগকে প্রকল্পের টাকা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তারা মানলেন না। পরে টাকাপ্রাপ্ত নেতারা যখন স্বীকারোক্তি দিল, সেটাও মানতে চাইছেন না উপাচার্য। জনগণের ট্যাক্সের টাকা ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো ভাবেই মেনে নেবে না। আমরা উপাচার্যকে জানাতে চাই, সসম্মানে পদ ছেড়ে দেন, না হলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আপনাকে পদ ছাড়তে বাধ্য করবে।

ছাত্র ইউনিয়ন নেতা রাকিবুল রনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব ছাত্রলীগ নেতা চাঁদাবাজি করেছেন, যারা টাকা পেয়েছেন তারা স্বীকার করেছেন যে উপাচার্য ছাত্রলীগ নেতাদের হলে হলে টাকা পৌঁছে দিয়েছেন। এই লজ্জা আমরা আর রাখতে পারি না। জনগণের রক্ত পানি করা টাকা থেকে আপনি লুটপাট করবেন আর হাসি-তামাশা করবেন, তা হতে পারে না। কেবল পদত্যাগের মধ্যেই আপনার রেহাই হবে না, আপনাকে বিচারের মুখোমুখিও হতে হবে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতা মোহাম্মদ দিদার বলেন, সমগ্র রাষ্ট্রের জনগণ জেনে গেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দুর্নীতির সাথে জড়িত। এই অবস্থায় দেশের কেউ চায় না উপাচার্য পদে তিনি থাকুক।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকায় গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠক করেন উপাচার্য ফারজানা। তবে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, জাহাঙ্গীরনগরে কোনো দুর্নীতি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। অর্থ এখনও ডেসপাস হয় নাই, এখনও কন্ট্রাক্ট শুরু হয় নাই, এখনও তো কিছু হয়নি। অর্থ নিয়ে যে সমস্ত কাহিনী আমরা শুনতেছি- এগুলোতো এখনও সেই পদ্মা সেতুর মত দশা… আমার কাছে মনে হচ্ছে।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

ইডেন কলেজে ছাত্রলীগ নেত্রীকে কোপালেন আরেক নেত্রী

ঘটনার বিষয়ে জানতে ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শামসুন নাহারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ছাত্রীদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, হাতেনাতে ধরা ছাত্রলীগ নেতা

নিজ বাড়িতে কলেজছাত্রীর সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকাবস্থায় পাবনার ঈশ্বরদী পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম

আবরার হত্যায় ছাত্রলীগ নেতা সকালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

রিমান্ডে থাকা ইফতি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ঢাকার হাকিম আদালতে নিয়ে যায় পুলিশ।

মন্তব্য লিখুন...

Top