16/11/2019 , ঢাকা

সংলাপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ঐক্যফ্রন্টের চিঠি


প্রকাশিত: 16/11/2019 00:14:30| আপডেট:

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে দেয়া চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে দেয়া চিঠিতে স্বাক্ষর করেন গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। রোববার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে চিঠি দুটি পৌঁছে দেন ঐক্যফ্রন্টের নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক ও আ ও ম শফিক উল্লাহ। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ চিঠি গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে ড. কামাল বলেন, ইতিবাচক রাজনীতি একটা জাতিকে কিভাবে ঐক্যবদ্ধ করে জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকারসমূহ আদায়ের মূল শক্তিতে পরিণত করে তা বঙ্গবন্ধু আমাদের শিখিয়েছেন। নেতিবাচক রুগ্ন রাজনীতি কিভাবে আমাদের জাতিকে বিভক্ত ও মহাসংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে তাও আমাদের অজানা নয়।

এ সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো আমাদের জাতীয় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। একটি শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সকলের অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে একটি অর্থবহ সংলাপের তাগিদ অনুভব করছে। সেই লক্ষ্যে আপনার কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি।

চিঠিতে আরো বলা হয়- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা। যে সকল মহান আদর্শ ও মূল্যবোধ আমাদের জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে উজ্জীবিত ও আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করেছিল তার অন্যতম হচ্ছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের প্রথম শর্তই হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ জনগণের পক্ষে জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে এবং জনগণকে শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও শাসনকার্য পরিচালনা করবে এটাই আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গীকার।

চিঠিতে আরো বলা হয়, আপনি নিশ্চয়ই একমত হবেন যে, বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনকে একটি মহোৎসব মনে করে। এক ব্যক্তির এক ভোট এর বিধান জনগণের জন্য বঙ্গবন্ধুই নিশ্চিত করেছেন। যা রক্ষা করা আমাদের সকলেরেই সাংবিধানিক দায়িত্ব। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য সংযুক্ত করা হয়।

চিঠি পৌঁছে দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দুই প্রতিনিধি। জগলুল হায়দার আফ্রিক বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বরাবর দুটি চিঠি পৌঁছে দিয়েছি। এর একটিতে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষর করেছেন। অপরটিতে স্বাক্ষর করেছেন মোস্তফা মহসিন মন্টু। এতে ঐক্যফ্রন্ট ঘোষিত সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্যের সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, আমরা দুটি চিঠি পেয়েছি। কিন্তু এখনো খুলে দেখা হয়নি। চিঠিতে কী লেখা আছে জানি না। আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক রাতে অফিসে আসবেন। তিনি চিঠি পড়ে সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে আলাপ করে চিঠির বিষয়বস্তুর বিষয়ে আপনাদের জানাবেন।

উল্লেখ্য, সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে গণফোরাম, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য। এ জোটের কর্মসূচিতে জামায়াত ছাড়া ২০ দলের অন্য শরিক দলের নেতারাও অংশ নিচ্ছেন। সাত দফা দাবি আদায়ে সিলেট ও চট্টগ্রামে সমাবেশ করেছে ঐক্যফ্রন্ট। সামনে রাজশাহীতে সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি মানা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা সাত দফা দাবিকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র বলে সমালোচনা করে আসছেন।

আরো পড়ুন: রোকেয়া হলে ছাত্রীদের মুখস্ত করানো হচ্ছে ছাত্রলীগের স্লোগান

** নির্ভরযোগ্য খবর জানতে ও পেতে স্টার মেইলের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন: Star Mail/Facebook


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

ফেসবুক পোস্টের কারণে বহিষ্কৃত আ.লীগ নেতা যা বললেন

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চুক্তিগুলো নিয়ে ফেসবুকে লেখা পোস্ট করায় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্যপদ থেকে

শেখ হাসিনা আমার অনুপ্রেরণা: প্রিয়াংকা গান্ধী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পর তাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভারতের

ওবায়দুল কাদেরের সব বিষয় জানার প্রয়োজন নেই: জয়নাল হাজারী

ঠিকই তো আছে যে এটা নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আলাপ করার কোনও দরকার নেই। সব বিষয় উনার জানার প্রয়োজন নেই।

মন্তব্য লিখুন...

Top