1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. mahir1309@gmail.com : star mail24 : star mail24
  3. sayeed.fx@gmail.com : sayeed : Md Sayeed
  4. newsstarmail@gmail.com : Star Mail : Star Mail
শিরোনাম :




শপিংমলে দোকান কিনে হাসপাতাল বানাচ্ছে ল্যাবএইড

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত কনকর্ড আর্কাডিয়া শপিংমলের দোকানগুলো কৌশলে কিনে নিয়ে এক ধরনের দখলদারিত্ব চালিয়ে সেখানে হাসপাতাল বানানোর অভিযোগ উঠেছে ল্যাবএইডের বিরুদ্ধে। ২০০২ সালে কনকর্ড আর্কেডিয়া শপিংমলটি চালুর পর একে একে শতাধিক দোকান কিনে নেয় ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ। কেনার পর মার্কেটের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় হাসপাতালের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করে। অভিযোগ আছে, রাজউকের নকশা অমান্য করে মার্কেটটিতে হাসপাতাল বানাচ্ছে ল্যাবএইড। মার্কেটের বড় অংশ হাসপাতালে রূপান্তর এবং কিনে রাখা অনেক দোকান মাসের পর মাস বন্ধ রাখায় শপিংমলটির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদেরকে এভাবে বেকায়দার ফেলে ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ বাকি দোকানগুলোও কিনে নেয়ার পাঁয়তারা করছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শপিংমলের নিচ তলায় ল্যাবএইড হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বহিরাগতদের হামলা ভাঙচুর ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শপিংমলটির ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সানাউল হক নীরু।

সংবাদ সম্মেলনে সানাউল হক বলেন, ‘রাজউকের লে-আউট প্ল্যান ও ডেভেলপারের ঘোষণা অনুযায়ী শপিংমলটির একটি বেইজমেন্ট, নীচতলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনড মার্কেট এবং ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা অফিসের জন্য বরাদ্দ ছিল। শপিংমল চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে ২০৪টি দোকানের মধ্যে নীচতলার ৪১টি, দ্বিতীয় তলায় ২৪টি, তৃতীয় তলার ১২টি এবং চতুর্থ তলার ৩১টি দোকান এবং পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় অফিস, ডা. চেম্বার, কোচিং সেন্টার ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে ২০০৫ সালে আমরা জানতে পারি মার্কেটের তৃতীয় তলার (৩০১-৩৫১) এবং চতুর্থ তলার (৪০১-৪৫১) মোট ১০২টি দোকান ও পঞ্চম তলার ৭ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস কিনে নিয়েছে ল্যাবএইড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ.এম. শামীম। দোকানগুলো কিনে নেয়ার পর মার্কেটের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলার ল্যাবএইডের পাশের অংশ ভেঙে হাসপাতালের সঙ্গে এক করে দেয়া হয়। একইসঙ্গে ওই ফ্লোরগুলোতে সাধারণ ক্রেতা ও মার্কেটের সংশ্লিষ্ট লোকজনের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। রাজউক চতুর্থ তলা পর্যন্ত মার্কেটের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু ল্যাবএইড জোর করে হাসপাতাল বানিয়ে ফেলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দোকান কিনে জোর করে মার্কেটের অংশকে হাসপাতাল বানিয়ে ফেলার অভিযোগে ২০১১ সালের ২৮ আগস্ট ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি করে ওনার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন। এরআগে রাজউকের অনুমোদিক নকশার বহির্ভূত নির্মাণ কাজের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ২০০৮ সালের ১৩ জানুয়ারি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর রাজউকের অনুমোদিত নকশার বিচ্যুতি ঘটানোর কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়।

এরপর ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি চুড়ান্ত নোটিশের মাধ্যমে শপিং মলের ৩য় ও ৪র্থ তলার নকশা বহির্ভূত স্থাপনা ও সংযোগ ব্রিজ নিজ খরচে ভাঙার নির্দেশ দেয়া হয় ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষকে।

এরইমধ্যে ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর মার্কেটের ভূমি মালিক ও ল্যাবএইডের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে কনকর্ড আর্কেডিয়া শপিংমল ওনার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন। শুনানি শেষে ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন আদালত। মামলাটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।

সানাউল হক নীরু আরও বলেন, ‘গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় শপিংমলটি ৫ দিন বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে দ্বিতীয় তলার ২০৮ নম্বর দোকানের পেছনের অংশ ভেঙে ল্যাবএইডের সঙ্গে করিডোর নির্মাণ করে। সেখানে কলাপসিবল গেটও লাগানো হয়েছে। এভাবে একের পর এক মার্কেটের দোকান ল্যাবএইডের সঙ্গে এক করে ফেলায় শপিংমলটির সার্বিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।’

একের পর এক দোকান কিনে সেগুলো হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত করে মার্কেটটিকে ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘প্রথমে একটি-দুটি করে দোকান কেনে ল্যাবএইড। সেগুলোতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না খুলে দীর্ঘদিন বন্ধ রাখে। এরপর সুযোগ বুঝে তাদের ভবনের সঙ্গে দোকানের দেয়াল ভেঙে যুক্ত করে নেয়। এতে মার্কেটের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দোকান কমে যাচ্ছে। ক্রেতারা আগের মতো মার্কেটে আসছেন না।’

সানাউল হক নীরু দাবি করেন, ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষের কাছে গত ২০১২ সাল থেকে জানুয়ারি ২০২০ পর্যান্ত সার্ভিস চার্জ বাবদ বকেয়া রয়েছে ৫ কোটি ৮৩ লক্ষ ৯০ হাজার ৫৮৪ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- শপিংমলের সহ-সভাপতি আল আমিন ও শাহীদ আহমেদ বাবু, সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ ওয়াহিদুর রহমান, সদস্য ফরিদা রিফায়ার, সিরাজুল ইসলাম আকন্দ, মো. শাহীন ও খোরশেদ আলম প্রমুখ।




এই বিভাগের আরো সংবাদ