1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. mahir1309@gmail.com : star mail24 : star mail24
  3. sayeed.fx@gmail.com : sayeed : Md Sayeed
  4. newsstarmail@gmail.com : Star Mail : Star Mail
শিরোনাম :
পাপিয়াকান্ড প্রকাশে লীগের অর্ধশতাধিক নারী নেত্রীরা নজরদারিতে কুমারখালী থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকে কুপিয়ে জখম অনলাইনে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তির আবেদন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গিয়ার পরিবর্তন করা হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী ‘কোনো রকমে নিজেদের জীবনটা বাঁচিয়ে,চোখে অশ্রু নিয়ে দিল্লি ছাড়ছে’ ১লা মার্চ মিজানুর রহমান আজহারীর তাফসির মাহফিল ‘এটাতো চিন্তাও করা যায় না মুজিববর্ষে ভারতের প্রতিনিধিত্বকে আমরা বাদ দেবো’ কারাবন্দি খালেদা জিয়ার এবারও জামিন হলো না রিমান্ডে মন্ত্রী,এমপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নাম পাপিয়ার মুখে যশোরে ছাত্রবাসে মিললো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গুলি-বোমা




মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের অবহেলায় প্রবাসী আফজালের গলিত মৃতদেহ দেশে প্রেরণ

ষ্টার মেইল,মালয়েশিয়া
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

মালয়েশিয়া মানেই সোনার হরিণ আর এমন চিন্তা চেতনায় নিয়েই পাড়ি জমায় হাজারো বাংলাদেশীরা। তারা আসে কাজ করে নিজের ও পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাবার জন্য। যত দিন প্রবাসে থাকে ততদিন যা আয় করে তার সব টুকুই পাঠায় বাংলাদেশে থাকা পরিবারের জন্য। আর সেই কাজ করতে গিয়ে নিতে হয় বিভিন্ন রকম জীবনের ঝুঁকি এর মধ্যে দুর্ঘটনার কবলে পরে অনেকে মৃত্যু বরণ করেন। প্রবাসে মৃত্যু হলে অবহেলার শেষ থাকে না প্রবাসীর লাশের।

তেমনটিই ঘটেছে বাংলাদেশী প্রবাসী আফজালের ক্ষেত্রে। তিনি গত ২০১৮ সালে জি টু জি প্লাস ভিসা নিয়ে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। প্রবাসী বাংলাদেশী আফজাল, বয়স : ৩৭ পিতা: সাখাওয়াত আলী বিশ্বাস, বাড়ি বাংলাদেশের যশোর জেলার, মনিরামপুরের হুগলডাংগা গ্রামে। তার দুই ছেলে এক মেয়ে ,বড় ছেলে ক্লাস ৮ পড়ে, ছোট ছেলে মাত্র মাদ্রাছায় ভর্তি হয়েছে। ছোট মেয়ের ৩ বছর বয়স। তিনি স্ট্রোক করে গত ৩ ফ্রেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মারা যান। হাসপাতাল তাইপিং পেরাকে আফজালের মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বাংলাদেশ দুতাবাস এর সাথে যোগযোগ করে তারা মৃতদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য হাসপাতাল থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে ৫ তারিখ রাত ১২ টার দিকে এসে পৌছায়। মালয়শিয়াতে আফজালের তেমন কেউই নিকট আত্মীয় বলে ছিলেন না। আফজাল মারা যাবার পরে কয়েকজন বাংলাদেশী প্রবাসীরা বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা সহ যোগযোগ করে বাংলাদেশ দুতাবাসে । তারপরে আফজালের লাশ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য ৬ তারিখে সকাল বাংলাদেশ দুতাবাসে ছাড়পত্র নেয়ার জন্য আসে।

কিন্তু সব কাগজপত্র ঠিক করে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে যখন ফ্লাইট করবে শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বলে পাসপোর্ট ছাড়া এই লাশ বাংলাদেশে পাঠানো যাবে না। কিন্তু আফজালের পাসপোর্ট তখন জোহরবারুতে যে কোম্পানিতে কাজ করতো সেখানে আছে। কে যাবে পাসপোর্ট আনতে, তখন বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তাদেরকে বলা হয় তোমরা কেউ গিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে আসো। কিন্তু কুয়ালালামপুর থেকে জহুরবারুর দুরত্ব কয়েক শ কিলোমিটার যা সময় লাগবে প্রায় ১০/১২ ঘন্টা যেটা খুবই কষ্টসাধ্যের ব্যাপার। তারপরও যে কেউ গেলে পাসপোর্ট কোম্পানি থেকে দেবে না। কারণ কেউ আফজালের নিকট আত্মীয় না।

‌উপায়ন্ত না পেয়ে কয়েকজন বাংলাদেশী পাসপোর্ট আনতে কোম্পানিতে গেলে কোম্পানির মালিক বলেন ,”তোমরা করা ? তোমাদের কাছে কেন পাসপোর্ট দেব ? বাংলাদেশ দূতাবাসের লোক আসতে হবে অন্যথায় পুলিশ নিয়ে আসতে হবে আমি তোমাদের কাছে কোন পাসপোর্ট দিতে পারবো না। উল্টো তাদেরকেই পুলিশে ধরিয়ে দিবে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করার হয়। উপায়ন্ত না পেয়ে পাসপোর্ট ছাড়াই তাদের জহুরবারু থেকে ফেরৎ আসতে হয়।

আফজালের নিথর দেহ পরে থাকে সেই এম্বুলেন্সে

আর সেদিনও আফজালের নিথর দেহ পরে থাকে সেই এম্বুলেন্সে। আস্তে আস্তে গলতে থাকে আফজালের মৃতদেহ এবং ছড়াতে থাকে হালকা হালকা দুর্গন্ধ।‌ অবশেষে বিভিন্ন জল্পনা কল্পনা শেষে ৭ তারিখ শুক্রবার বিকালে ৫ টার পরে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে দেয়া হয় আফজালের ছাড় পত্র।

বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে দেয়া হয় আফজালের ছাড় পত্র

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বলেন, আমি যখনই জানলাম আফজাল নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই মারা গেছে ইপু তাইপিং এ। এটা আমি জানার সাথে সাথে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে জানালাম এবং আমি সংগে সঙ্গে তাইপিং এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। সেখানে থাকা প্রবাসী ভাইদের সহায়তায় তার মৃতদেহ দেশে পাঠানোর সম্পন্ন কার্যাদি শেষ করি, কই দূতাবাস থেকে কেউই তো বললো না যে তার পাসপোর্ট লাগবে?

এক প্রবাসী তুহিন বলেন, আমরা অশিক্ষিত মানুষ কিন্তু দূতাবাসের লোকজন তো অনেক শিক্ষিত বিসিএস কেডার নাকি, তারা এমন করলো কিভাবে ? যদি কোম্পানি থেকে পাসপোর্ট আনতেই হতো আগে বলতে পারতো বাংলাদেশ দূতাবাস তাহলে আফজালের মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে রেখেই আমরা এটার জন্যে চেষ্টা করতাম। তাহলে আর আফজাল ভাইয়ের লাশ এভাবে পোস্তা না বা গন্ধ ছড়াতো না।

তিনি এই প্রতিবেদককে এক প্রবাসী শরীফ বলেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন জায়গায় বলেন আমরা যারা প্রবাসে থাকি এবং দেশের জন্যে রেমিট্যান্স পাঠায় তারা নাকি সোনার ছেলে হায় আফসোস হয় আজ সোনার ছেলেদের সাথেই যদি এমন আচরণ হয় তাহলে আমরা কি করবো। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন আমাদের দিকে একটু সু-নজর দিন।

অবশেষে ৮ তারিখ শনিবার সকালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের এমএস-১০৫ এর মাধ্যমে সকাল ১১ টার দিকে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌছাবে। আফজালের মৃতদেহ তুলে দেয়া হবে তার আত্বীয় স্বজনের কাছে। তারা আফজালের মৃত দেহ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়বে, কপাল ভালো হলে বাংলাদেশ ওয়েস অনার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে আফজালের দাফন কাফনের জন্যে দেয়া ৩০/৩৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে হয়তো হাজার চেস্টা করে সাগর সেচে পাইতেও পারে সেই স্বপ্নের ৩ লক্ষ টাকা এবং মালয়েশিয়ায় কোম্পানির ইন্সুইরেন্স থেকে টাকা পাওয়া আর সোনার হরিণের পিছনে দৌড়ানো একই কথা বললেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী । এই মালয়েশিয়া সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদের আকুতি এই দুর্ভোগ কবে দূর হবে ?




এই বিভাগের আরো সংবাদ