1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. mahir1309@gmail.com : star mail24 : star mail24
  3. sayeed.fx@gmail.com : sayeed : Md Sayeed
  4. newsstarmail@gmail.com : Star Mail : Star Mail
মানুষিকতা পরিশুদ্ধ করতে পারলে, মনুষ্যত্বের দাবি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না | Starmail24
শিরোনাম :
এমএলএম কোম্পানির সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ঝিনাইদহে গাঁজার গাছসহ ছাত্রলীগ নেতা আটক মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার চাচী ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার স্মরণে দোয়া মাহফিল বিশ্বসেরা গবেষকের তালিকায় বাংলাদেশি সাঈদুর রৌমারীতে নিজস্ব অর্থায়নে ২০০ হাত লম্বা বাঁশের সাঁকো মেরামত ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের দাবি ঝিনাইদহের ভাষা সৈনিক জাহিদ হোসেন মুসা আর নেই মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতির মায়ের মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল ভার্চুয়াল মিট-আপে মালয়েশিয়ায় ৬টি কোম্পানির উদ্বোধন মালয়েশিয়ায় শুরু হচ্ছে বৈধকরণ প্রক্রিয়া, পাসপোর্ট দ্রুত পেতে বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা




মানুষিকতা পরিশুদ্ধ করতে পারলে, মনুষ্যত্বের দাবি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না

লেখক: রুবাইয়া শারমিন রুবা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০

খুলনার ফুলতলি বাস স্ট্যান্ডে বসে আছি আব্বুর সাথে ৷ উদ্দেশ্য ঢাকা যাব ৷ তখন বাজে আড়াইটা ৷ সকাল দশটায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে আব্বুর পরিচিত এক কলিগ এর বাসা থেকে একটায় বাস স্ট্যান্ড এর জন্যে রওনা দিয়েছিলাম ৷ বাস সার্ভিস এর লোকেরা জানালো তিনটায় যে বাস আসার কথা সেটা এখনো ঘাটের ওপারে ৷ সিদ্ধান্ত হলো তারা অন্য একটা বাসে করে ঘাট পর্যন্ত দিয়ে আসবে ,আর ওপারে গিয়ে অন্য বাসে ঢাকা আসতে হবে ৷ সাড়ে তিনটায় বাসে উঠলাম ৷ বাস ঘাটে যখন পৌছালো তখন বাজে সাড়ে সাতটা ৷ এতো জ্যাম যে ওপারে যেতে যেতে ভোর হয়ে যাবে ৷ আবার ১২টার পর নাকি ফেরি চলাচল বন্ধ কুয়াশার জন্য ৷

ঐদিন ছিল শনিবার ৷ পরদিন সকালেই আব্বু কে অফিসে জয়েন করতে হবে ৷ ছুটি নিতে পারেনি আব্বু ৷ শুক্র শনি দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি তে আব্বুর সাথে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম ৷ এখন এমন পরিস্থিতিতে কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না ৷ অবশ্য আমি কিছু ই ভাবি নি ৷ কারন আব্বু আছে সাথে ৷ যা ভাবার আব্বু’ই ভাববে ৷

যখন বাসে ছিলাম তখন আমাদের রো তে বসা একটা ছেলে কে আব্বুর সাথে কথা বলতে দেখি ৷ পরে জানতে পারি ওই ছেলে টাও পরীক্ষার্থী ৷ আমার মত ও অনেক জায়গায় এডমিশন টেস্ট দিয়েছে, কিন্তু কোথাও চান্স পায়নি বা অনেক পরে সিরিয়াল, হওয়ার পসিবিলিটি কম ৷ওর ও সকালের মধ্যে ঢাকা পৌছাতে হবে ৷এই এলাকার কিছু ই ও চেনে না ৷ তাই আব্বুর সাথে পরামর্শ করছিল কি করা যায় ৷ আমরা প্রায় আটজন মত একটা অটোকে জোর করে আটকিয়ে তাতে উঠে পড়লাম ৷ ঘাটে এসে একটা ফেরি ও পেয়ে গেলাম ৷ নিচতলায় ভীর থাকার কারনে আব্বু বললো দোতলায় যেতে ৷ এতো সময় ছেলে টাও আমাদের সাথে ছিল ৷ তো দোতলায় উঠে দাঁড়িয়ে আছি ৷ ফেরি তখন ও ছাড়ে নি ৷ যখন ফেরি স্টার্ট করবে ঐ সময় আমি দোতলার রেলিং ধরে সামনে তাকিয়ে ছিলাম ৷ আর আব্বু আমার পেছনে খালি হাতেই দাঁড়িয়ে ছিল ৷

ফেরি স্টার্ট দেয়ায় কয়েক সেকেন্ড পর ফেরি টা কিছু একটার সাথে জোরে ধাক্কা খেলো ৷ আমি রেলিং ধরে থাকায় একটু ঝাঁকুনি খেয়ে আবার ঠিক হয়ে নিলাম ৷ কি মনে হতে পেছনে তাকিয়ে দেখি আব্বু কে দুই তিনজন লোক ধরে ফ্লোর থেকে তুলছে ৷ আমি সাথে সাথে আব্বুর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করি কি হয়েছে ৷ পরে বললো যে ঝাঁকুনির কারনে পড়ে গিয়েছিল ৷ আমি আব্বু কে জিজ্ঞাসা করলাম, আব্বু তোমার লেগেছে কোথাও, ঠিক আছো তুমি? যেখানে আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম পাশেই ওজু করার জায়গা ছিল ৷ ওটা সিমেন্ট দিয়ে পার্টিশন করা ছিল ৷ পার্টিশনের এক কোনাতে আব্বু আঘাত পেয়েছিল কোমরে ৷ সেটাই আমাকে বললো ৷ আরো বললো তেমন বেশি লাগেনি ৷ ঠিক আছে আব্বু ৷ আমি ও আশ্বস্ত হয়ে পাশেই দাঁড়ালাম ৷

প্রায় দুই তিন মিনিট পর আব্বু হঠাৎ করে আমার হাত ধরে বললো, রুবা আমার কেমন জানি লাগছে ৷ আর কিছু বলতে পারলোনা ৷ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাচ্ছিল মাটিতে ৷ আমি তাড়াতাড়ি করে আব্বু কে ধরলাম আর জোরে একটা আওয়াজ করে বললাম আমার আব্বুর কি হলো ?

স্টোক করলে অজ্ঞান হয় জানতাম ৷কিন্তু কি করতে হবে জানতাম না ৷আমি খালি একটা বুলি বলছি আমার আব্বুর কি হলো ৷ তখন আমাদের সাথে থাকা ছেলেটা বললো পানি আছে তোমার কাছে বা বোতল? আমি তাড়াতাড়ি ব্যাগ থেকে পানির একটা বোতল বের করে দিলাম ৷ ছেলেটা আব্বুর মাথায় পানি দিতে থাকলো ৷ আর আব্বু কে পাশের সেই ওজুখানার একটা বেঞ্চে বসানো হলো ৷ আব্বু তখন ও কিছু বলার মতো অবস্থায় নাই ৷ বোতলের পানি শেষ করে পানির টেপ থেকে পানি দিতে থাকলো ৷ আমি বার বার বলছি আব্বু তুমি আমার কথা শুনতে পারছো ? তাকাও আমার দিকে…… আর আল্লাহ কে ডাকছিলাম ৷

এভাবে পানি ঢালার অনেক্ষণ পরে আব্বু আসতে আসতে চোখ খুললো ৷ এসময়ে পানি ঢালার কারনে আব্বুর পুরো শার্ট ভিজে গেছে ৷ কোনো রকম আব্বুর জ্ঞান ফিরে আসলেও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলো না ৷

আমরা ছিলাম দোতলায় ৷ আবার ফেরিও ওপর পাড়ে পৌছে গেছে ৷ নামবো কি করে আব্বু আর ব্যাগ নিয়ে ৷ আব্বু কে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি কি হাঁটতে পারবা ৷ আব্বু চেষ্টা করেও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলো না ৷ তখন ঐ ছেলে বললো যে তুমি ব্যাগ গুলো নাও ,আমি দেখি আংকেল কে নিয়ে নামতে পারি কিনা ৷ সেই ছেলেটাই আব্বু কে ফেরি থেকে নামিয়ে একটা চায়ের দোকান পর্যন্ত নিয়ে গেল ৷ পথে বললো তোমার আব্বু তোমাকে নিয়ে অনেক বেশি টেনশন করে, এজন্য এ অবস্থা হয়েছে ৷আংকেলকে একটু কম টেনশন করতে বলবা ৷

আব্বু কে ওখানে বসিয়ে বললো আংকেল আপনি আগে এখানে একটু বসেন ৷ আমি দেখে আসি কোনো বাসে সিট পাওয়া যায় কিনা ৷ তখন বাজে রাত এগারোটা ৷ কোনো বাসে সিট পাওয়া যাচ্ছিল না ৷ যে ছেলে টা আমাদের সাথে এসেছিল তার ফ্রেন্ড রা একটা বাসে কোনো রকমে দৌড়ে উঠে পড়েছিল ৷ কিন্তু ছেলেটা যায়নি ৷

অনেক খোঁজার পর একটা বাস পাওয়া গেলো যেটা যাত্রী সম্পূর্ণ না হলে ছাড়বেনা ৷ এদিকে ফেরি বন্ধ হয়ে গেছে ৷ তাই আর বেশি লোক ও হবেনা ৷ পরে যে কয়জন হলো তারাই জোরাজুরি করে বাস স্টার্ট করালো ৷ এর মধ্যে আব্বু একবার ছেলে টা কে বলেছিল যে তুমি তোমার ফ্রেন্ড দের সাথে চলে যাও৷ আমরা পরে আস্তে ধীরে অন্য বাসে চলে যাব ৷ছেলেটা বললো , না আংকেল আপনাকে নিয়েই যাব ৷ আপনি চিন্তা করবেন না ৷ সত্যি ই ছেলেটা আমাদের কে ক্যান্টনমেন্ট এর গেট পর্যন্ত সাবধানে নামায় দিয়ে গিয়েছিল ৷শুধু তাই না, পর দিন সকালে ফোন করে আব্বু কেমন আছে খোঁজও নিয়েছিল ৷

এখন কথা হচ্ছে এত দিন পর এই ঘটনা লেখার উদ্দেশ্য কি? কদিন ধরে এতো নেগেটিভ ঘটনা শুনছি যেখানে বোঝানো হচ্ছে মানুষ এখন প্রতারক, ভন্ড, স্বার্থপর, উশৃংখল ৷ কিন্তু আমি বলবো যে না, এখনো এমন মানুষ আছে, যারা অন্যের বিপদে নিঃস্বার্থে এগিয়ে আসে ৷ সমাজে এখনো এরকম মানুষিকতার মানুষ আছে যারা মনুষ্যত্ব নিয়ে চলাফেরা করে ৷ ঐদিন ঐ ছেলেটা না থাকলে আমি আব্বু কে নিয়ে কিভাবে বাসায় আসতাম আমি জানি না ৷ এখনো ঐ দিনের কথা ভাবলে আমার ভয় হয় ৷

আমি শুধু ভাবি যে ছেলেটার মা বাবা তাকে কত সুন্দর শিক্ষা দিয়ে বড় করেছে ৷ আমি এমন অভিভাবক কে কৃতজ্ঞতা জানাই যে তারা তাকে মনুষ্যত্বের শিক্ষা দিয়েছে ৷প্রতিটা পরিবার যদি এভাবে মনুষ্যত্বের শিক্ষা দিতে পারে তাহলে আমার মনে হয় বর্তমান সময়ে যে অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধ গুলো হচ্ছে তা দূর হবে ৷ আমরা সবাই সমালোচক হিসেবে খুব ই ভালো ৷কিন্তু অন্যের সমালোচনা না করে আমরা যদি সবাই নিজের ভেতর টাকে পরিশুদ্ধ করতে পারি তাহলে হয়তো রাস্তায় রাস্তায় মনুষ্যত্বের দাবি নিয়ে দাঁড়াতে হবে না ৷

লেখক:
রুবাইয়া শারমিন রুবা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়




এই বিভাগের আরো সংবাদ