1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. mahir1309@gmail.com : star mail24 : star mail24
  3. sayeed.fx@gmail.com : sayeed : Md Sayeed
  4. newsstarmail@gmail.com : Star Mail : Star Mail
ভয়ঙ্কর সময়ে জুমায় ঢল নামিয়ে করোনাক্রান্ত হবেন কিনা ভাবুন | Starmail24




ভয়ঙ্কর সময়ে জুমায় ঢল নামিয়ে করোনাক্রান্ত হবেন কিনা ভাবুন

খুজিস্তা নূর-ই–নাহারিন (মুন্নি)
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০

করোনায় আক্রান্তের ভয়ঙ্কর পর্বে আমরা। শুক্রবার পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করতে দলবেঁধে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদে সমবেত হবেন? মুসল্লিদের ঢল নামিয়ে করোনাক্রান্ত হবেন নাকি ঘরে বসে আল্লাহর ইবাদত করবেন ভাবুন। আপনি আক্রান্ত হলে পরিবারসহ অনেকে আক্রান্ত হবেন। আরেকজন আপনাকেসহ অনেককে আক্রান্ত করতে পারেন। দিল্লিতে তাবলীগ জামাতে ৪’শ জন করোনাক্রান্ত হয়েছেন। গাম্বিয়ায় বাংলাদেশের ইমামের করুণ মৃত্যু হয়েছে। ভারতে তাবলিগ জামাত নেতা মাওলানা সাদ এখন আক্রান্ত। সরকারের নির্দেশ শোনেননি।

পবিত্র মক্কায় মসজিদে নামাজ বন্ধ। অনেক দেশেই মসজিদে এ অবস্থা। আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান। আল্লাহকে আমরা ভয় পাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েন। কোরআন তেলাওয়াত করেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। হজ করেছেন। ধর্ম ও খোদাভীরু। বয়স্ক অসুস্থদের মসজিদে যেতে বারণ করলে মসজিদে নামাজ বন্ধ করবেন না। এদেশে নোংরা রাজনীতির ভয় অপপ্রচারও আছে। কিন্তু আলেম, ইমামদেরই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহ সবাইকে বুদ্ধি বিবেচনার ক্ষমতাই দেননি, পথও দেখিয়েছেন মহানবী। চিন্তা করুণ সবাই।

মার্কিন কূটনীতিকসহ নাগরিকদের নিয়ে গেছে তাদের সরকার। সর্বশেষ জাপানিরাও চলে গেলো। পৃথিবীর কোথাও কেউ নিরাপদ নয়। যে শক্তিশালী চীনের উহানে ধ্বংসলীলা চালিয়ে করোনাভাইরাস পৃথিবীর বুকে আঘাত করেছিলো সেখানে আজ তার দানবীয় ত্রাসে লন্ডভন্ড দুনিয়া। গোটা মানবজাতির জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক নিয়ে হাজির হয়েছে। পৃথিবীকে অচল নিস্তব্ধ করে মৃত্যুর ভয়াবহতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে,মানবজাতি কতো অসহায়। বিজ্ঞান প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবা চিকিৎসা পদ্ধতি অচল। গবেষণাগারে কার্যকর সুসংবাদ নেই। যুক্তরাষ্ট্রই এখন সর্বোচ্চ আক্রান্তের তালিকায়। মৃত্যুর বিভিষীকাময় পরিস্থিতিতে লড়াই চলছে। বাড়ছে লাশের মিছিল। ইতালিসহ ইউরোপ আজ লাশের পাহাড়ে পরিণত। মানবজাতির আর্তনাদে পৃথিবীর আকাশ বাতাশ প্রকম্পিত। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন বিপর্যয় কখনো আসেনি। সব বন্ধ রেখে কেবল বাঁচার লড়াই। স্পেন, ফ্রান্স, বৃটেন, জার্মান, কানাডা কোথায় নেই থাবা? রাশিয়ার পুতিনের ভবনও নিরাপদ নয়। চীনের প্রকৃত মৃতের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন। উন্নত দুনিয়ায় এর শেষ কোথায় কেউ জানে না। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বার্তায় কেবল সতর্কতা। সুসংবাদ নেই। কত প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে এবার পৃথিবীতে কেউ জানে না। কোথাও আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে কি কমছেই না, বেড়েই চলছে। শীত করোনার জন্য খারাপ গরম ভালো, এমন সংবাদেরও সত্যতা নেই। কদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে হাতেগোনা করোনা রোগী ছিলো, আজ ২ লাখ ছাড়িয়েছে। লাশের মিছিলে শোকের মাতম। ইতালি স্পেনেও একদিনে এই করুণ পরিনতি আসেনি।এখান কি হবে জানিনা আমরা। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় তাড়া করছে।

বাংলাদেশ কঠিন লড়াইয়ে। কিন্তু তবু জনবহুল দেশে সমাগম বন্ধ হচ্ছে না। দরিদ্রদের ঘরে খাবার দেয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী কঠোর পরিশ্রম করছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। মানবতার সেবায় দেশ এক হয়ে লড়ছে। সামাজিক দূরত্ব, সঙ্গরোধ, আইসোলেশন সচেতনতাই বাঁচার পথ। চিকিৎসা পৃথিবীতে নেই। ভ্যাকসিন নেই। সমাগম না হতে সেনাবাহিনীকে, পুলিশকে কঠোর হতে বলা হয়েছে। আরও কঠোর হতে হবে। যেখানে একজনের জন্য ৫৯ হাজারের সর্বনাশ সেখানে সরকারি নির্দেশ কেউ না মানলে কিসের দয়ামায়া? কঠোর হতেই হবে। এ কঠোরতাকে সমর্থন দিন, সমালোচনা নয়। এখন উপমহাদেশেও আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদেরও। এখনই সর্বনাশের সময়। মনে রাখবেন, হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘যেখানেই সালাতের সময় হবে সালাত আদায় করে নাও, সমস্ত জমিন তোমার জন্য মসজিদ’।

লেখক: সম্পাদক, পূর্বপশ্চিম




এই বিভাগের আরো সংবাদ