22/11/2019 , ঢাকা

‘ভারতের হয়ে খেললে আরো সুনাম হতো সাকিবের’


প্রকাশিত: 22/11/2019 10:58:21| আপডেট:

স্টার মেইল, ঢাকা: সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের পরিবর্তে যদি ভারতের হয়ে খেলত তাহলে বিশ্বে আরো বেশি পরিচিতি পেত, আরো সুনাম হতো। এমন মন্তব্য করেছে কলকাতার প্রভাবশালী বাংলা সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

বুধবার আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি হুবহু তুলে ধরা হলো- দুর্দান্ত পারফরমার বললেও বোধহয় কম বলা হয়। ভারতের অনেকেই বলে থাকেন, বাংলাদেশের হয়ে না খেলে সাকিব যদি ভারতের হয়ে খেলতেন, তা হলে তার আরও সুখ্যাতি হতো। তার পারফরম্যান্স আরও নজরে পড়ত।

ক্রিকেটার সাকিবের আড়ালে রয়েছে অন্য এক স্বত্তা। তিনি বিতর্কিত। একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন। আইসিসির বিচারে সম্প্রতি ১ বছরের জন্য নিষিদ্ধ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের সেই সব বিতর্কিত মুহূর্ত আরও একবার দেখে নেয়া যাক।

২০১৯ সালের বিশ্বকাপের আগে দলের ফোটোসেশনে ছিলেন না সাকিব। বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে জার্সি উন্মোচনে উপস্থিত ছিলেন না সাকিব। দলের আনুষ্ঠানিক ফটোশুটেও তিনি গড়হাজির ছিলেন। সাকিবের অনুপস্থিতি নিয়ে দেশে ঝড় বয়ে যায়।

সেই সময়ে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার যে দেশের বাইরে ছিলেন এমনও নয়। বাংলাদেশেই ছিলেন বাঁ হাতি অলরাউন্ডার। তবুও তিনি দলের ফোটোসেশনে উপস্থিত থাকেননি।

ফটোসেশন যে দিন হয়েছিল, তার আগের দিন আইপিএল খেলে দেশে ফিরেছিলেন সাকিব। সকালে মাঠেও এসেছিলেন। কিন্তু, ফোটোসেশনের ঘণ্টা খানেক আগে মিরপুর ছেড়ে চলে যান তিনি। বাংলাদেশের নতুন জার্সিতে কেন যে তিনি ফটো তোলেননি তা থেকে যায় অজানাই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন বিষয়টাকে ভালোভাবে নেননি।

নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচে সতীর্থদের মাঠ ছেড়ে চলে আসতে বলে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন সাকিব। তখন তিনি ছিলেন দেশের অধিনায়ক। দ্বীপরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষের দিকে দারুণ উত্তেজক হয়ে ওঠে। শেষ ওভারে বাংলাদেশের জেতার জন্য দরকার ছিল ১২ রান। শেষমেশ বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতলেও মেজাজ হারান সাকিব। মাঠ ছেড়ে চলে আসতে বলেছিলেন ব্যাটসম্যানদের।

শ্রীলঙ্কার ১৫৯ রান তাড়া করতে নামে বাংলাদেশ। জেতার জন্য শেষ ওভারে দরকার ছিল ১২ রান। শেষ ওভারের প্রথম বলটি ছিল বাউন্সার। পরের বলটিও বাউন্সার। দ্বিতীয় বলে মুস্তাফিজ রান আউট হলেও দ্বিতীয় বাউন্সারের জন্য লেগ আম্পায়ার নো বল ডাকেন। কিন্তু, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। তাদের সম্মিলিত প্রতিবাদের মুখে আম্পায়ার নো-বলের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন।

আম্পায়ারের এ হেন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা প্রতিবাদ জানান। মাঠের বাইরে চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কাতর্কি বাধে সাকিবের। ব্যাটসম্যানদের মাঠ ছেড়ে চলে আসতে বলেন তিনি। ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ থামান ব্যাটসম্যানদের। জেতার জন্য ৪ বলে তখন দরকার ১২ রান। মাহমুদুল্লাহ ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে ফাইনালে তোলেন। টানটান উত্তেজনায় বাংলাদেশ ম্যাচ জিতলেও জরিমানা হয়েছিল সাকিবের।

প্রথম বার সাকিবকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ২০১৪ সালে। কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করায় জরিমানা হয়েছিল সাকিবের।

সে বার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন টেলিভিশন ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেছিলেন সাকিব। সেই ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছিল। বোর্ড প্রথম বার সাকিবকে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ করে। বোর্ডের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি সাকিবকে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল বোর্ডের ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

সেই বছরই ফের শাস্তির মুখে পড়েছিলেন তিনি। বোর্ডের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আচরণগত সমস্যার অভিযোগে ২০১৪ সালের ৭ জুলাই ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক সব ধরনের ক্রিকেট থেকে ৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল সাকিবকে। পরবর্তী দেড় বছর দেশের বাইরে কোনো টুর্নামেন্টে খেলার জন্য সাকিবকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেবে না বলে জানিয়েছিল বিসিবি। পরে অবশ্য তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বোর্ড শাস্তি কমায়।

সম্প্রতি বোর্ডের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেমেছিলেন ক্রিকেটাররা। তার নেতৃত্বে ছিলেন সাকিব। ১১ দফা দাবি পেশ করেছিলেন ক্রিকেটাররা। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত তারা খেলবেন না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই ধরনের বিদ্রোহের ঘটনা ছিল নজিরবিহীন। পরে অবশ্য বোর্ড ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলে বরফ গলায়।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

সাকিবের শাস্তির প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে আইসিসির শাস্তির প্রতিবাদে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)

‘নো সাকিব, নো ক্রিকেট’

বিশ্ববরেণ্য ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় তার নিজ জেলা মাগুরায় মানুষের মাঝে ক্ষোভ-অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সাকিবকে শাস্তির প্রতিবাদে নিজ জেলায় মানববন্ধন, যাননি বাবা

সাকিব আল হাসানের শাস্তির প্রতিবাদে নিজ জেলা মাগুরায় বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন ক্রিকেটভক্ত, শুভানুধ্যায়ী এবং ক্রীড়া সংগঠকরা।

মন্তব্য লিখুন...

Top