23/10/2019 , ঢাকা

ভাইয়ের সাথে দ্বন্দ্ব, মাকে তালাবন্দি করে অভুক্ত রাখলো সন্তান!


প্রকাশিত: 23/10/2019 19:33:56| আপডেট:

স্টার মেইল, নাটোরঃ জমি জমা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ভাইয়েরা মারধর করতে পারেন এমন আতঙ্কে বৃদ্ধ মাকে ঘরে তালাবদ্ধ রেখে স্ত্রীসহ অন্যত্র চলে যান আক্তারুজ্জামান। দুপুর গড়িয়ে গেলেও খাবার না পেয়ে ক্ষুধার জ্বালায় কাতরাচ্ছিলেন হাজেরা বেওয়া (৯০)।

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দক্ষিণ মুরাদপুর গ্রামে শনিবার এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধার ওই গ্রামের মৃত বিশারদের স্ত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ অভুক্ত মাকে উদ্ধার করে খাবারের ব্যবস্থা করেছে।

এ ঘটনা স্বীকার করে বৃদ্ধার বড় ছেলে বাচ্চু মিয়া ওরফে টুলু বলেন, জমি নিয়ে আব্দুল মজিদের সাথে আক্তারুজ্জামানের দ্বন্দ্ব হয়েছে। তবে তার সাথে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। বরং ছোট ভাইয়ের বাড়িতে তার মা থাকলেও তার কাছেই খাওয়া-দাওয়া করেন বলে তিনি জানান।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদ জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর হৃদরোগে আক্রান্ত হন হাজেরা বেওয়া। এরপর থেকে তিনি অসুস্থ। চার ছেলেসন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে আক্তারুজ্জামানের বাড়িতে থাকেন তিনি। চারজনের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী। অন্য তিনজন মায়ের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন।

শনিবার সকালে জমি জমা নিয়ে ভাইদের মধ্যে আক্তারুজ্জামানের দ্বন্দ্ব হয়। এ ঘটনায় অন্য ভাইয়েরা তাকে মারধর করতে পারেন এমন আতঙ্কে মাকে ঘরে তালাবদ্ধ রেখে স্ত্রীসহ অন্যত্র চলে যান আক্তারুজ্জামান। দুপুর গড়িয়ে গেলেও খাবার না পেয়ে ক্ষুধার জ্বালায় কাতরাচ্ছিলেন হাজেরা বেওয়া।

এক সময় বিষয়টি প্রতিবেশীদের নজরে আসে। এরপর প্রতিবেশীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দেবী পালকে জানালে তিনি সেখানে পুলিশ পাঠান। পরে পুুলিশ গিয়ে তালা খুলে বৃদ্ধা হাজেরা বেওয়াকে উদ্ধার করে। তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার তাকে খাবারের ব্যবস্থা করে দেয় পুলিশ।

ইউএনও প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, বৃদ্ধা মাকে উদ্ধার করে তার অন্য ছেলেদের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। তারা পরবর্তীতে এমন কাজ না করার প্রতিশ্রতি দিয়েছেন। তবে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন তদারকি করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

এক মায়ের গর্ভে ৪ নবজাতকের জন্ম

২টি শিশু সম্পূর্ন সুস্থ। তবে বাকি দু'টি শিশুর ওজন অত্যন্ত কম হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পেটের ছেলে এইভাবে মারবে, বৃদ্ধা মায়ের প্রশ্ন

মানুষের বৃদ্ধা হওয়াটাই যেন সবচেয়ে বড় অপরাধ? আমার ঘর-সংসার, ছেলেমেয়ে সব থাকার পরও আজ আমি বড় অসহায়। জায়গা-জমি সব লিখে দিয়েছি। ঘরবাড়ি সব কিছু নিয়ে মুখে

তোমাকে কাছে পেতে চাই, নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে ডিসি

নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে এবং মোবাইল ফোনে কু-প্রস্তাব দিয়েছেন। গোলামুর রহমানের কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন ভাবে ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে হয়রানি

মন্তব্য লিখুন...

Top