9/12/2019 , ঢাকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত


প্রকাশিত: 9/12/2019 16:39:25| আপডেট:

স্টার মেইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ভোর রাতে দুই ট্রেনের মধ্যে এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী। সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথার মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে আখাউড়া রেলওয়ে পুলিশের ওসি শ্যামলকান্তি দাশ জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন বলেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দশ জনের মৃত্যু হয়। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে আরো ছয় জন মারা যায়।

আহত অর্ধশতাধিক যাত্রীকে কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা পর ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মিয়া জাহান বলেন, সিলেট থেকে ছেড়ে উদয়ন এক্সপ্রেস যাচ্ছিল চট্টগ্রামে। আর তূর্ণা নিশীথা চট্টগ্রাম থেকে যাচ্ছিল ঢাকায়। তূর্ণা নিশীথার চালকের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আমরা।

মিয়া জাহান বলেন, মন্দবাগে দুই ট্রেনের ক্রসিং হচ্ছিল। সিগন্যাল পেয়ে উদয়ন মেইন লাইন থেকে লুপ লাইনে প্রবেশ করছিল। ট্রেনের নয়টি বগি লুপ লাইনে চলে যাওয়ার পর দশম বগিতে হিট করে তূর্ণা নিশীথা। ওই ট্রেনের লোকোমাস্টার সিগন্যাল অমান্য করায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি।

সংঘর্ষের পর তূর্ণা নিশীথার একাধিক বগি উদয়নের কয়েকটি বগির ওপর উঠে যায়। এর মধ্যে দুটি বগি ভীষণভাবে দুমড়ে মুচড়ে যায়। সেখানে আরও মৃতদেহ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মীরা।

দুর্ঘটনার পরপরই রেল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট এবং পুলিশ সদস্যরাও যোগ দেন।

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, তূর্ণা নিশীথা ট্রেনকে মন্দবাগ রেলস্টেশনে দাঁড়ানোর জন্য সিগন্যাল দেওয়া হয়। ওই সিগন্যালে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস প্রধান লেন থেকে ১ নম্বর লাইনে যেতে শুরু করে। ট্রেনটির ছয়টি বগি ১ নম্বর লাইনে উঠতে পেরেছিল। অন্য বগিগুলো প্রধান লেনে থাকা অবস্থায় তূর্ণা নিশীথা সিগন্যাল অমান্য করে। এতেই দুর্ঘটনা ঘটে।

তূর্ণা নিশীথার যাত্রী কাজী ফজলে রাব্বি বলেন, ‘উদয়ন এক্সপ্রেস ঢোকার আগেই বিপরীত দিক থেকে তূর্ণা নিশীথা এসে ধাক্কা দেয়। আমরা তখন ঘুমিয়ে ছিলাম। শব্দ পেয়ে আমরা তাড়াতাড়ি করে ট্রেন থেকে নেমে পড়ি।’

উদয়ন এক্সপ্রেসের যাত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ট্রেনটি লাইন ক্রস করার সময় দ্রুতগতিতে এসে তূর্ণা ধাক্কা দেয়। আমি সামনের বগিতে থাকায় আহত হইনি। পেছনের তিনটি বগির যাত্রীরা গুরুতর আহত হয়েছেন।’

মন্দবাগের স্থানীয় বাসিন্দা সালাম বলেন, ‘গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। ঘর থেকে বের হয়ে এসে দেখি কান্নার শব্দ। এখানে সেখানে ছিটকে পড়ে আছে মরদেহ। পরে এলাকার সবাই বেরিয়ে আহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করি।’

দুর্ঘটনাস্থলের কাছে বায়েক শিক্ষা সদন উচ্চ বিদ্যালয়ে খোলা অস্থায়ী ক্যাম্পে দশ জনের লাশ রেখেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এছাড়া কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে দুইজন এবং কুমিল্লা সদর হাসপাতালে একজনের মৃতদেহ রয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের পশ্চিম রাবাজগাঁও মুজিবুল রহমান (৫৫), হবিগঞ্জের ভোল্লার ইয়াছিন (১২), চুনারুরঘাটের তিরেরগাঁওয়ের সুজন আহমেদ (২৪), মৌলভীবাজারের জাহেদা খাতুন (৩০), চাঁদপুরের কুসসুম বেগম (৩০), হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের আল-আমিন (৩০), হবিগঞ্জের আনোয়ারপুরের আলী মোহাম্মদ ইউসুফ (৩২), হবিগঞ্জের বানিচংয়ের আদিবা (২), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সোহামনি (৩), চাঁদপুরের উত্তর বালিয়ার ফারজানা (১৫)।

বায়েক শিক্ষা সদন উচ্চ বিদ্যালয়ে খোলা অস্থায়ী ক্যাম্প থাকা ১০টি লাশের মধ্যে স্বজনদের কাছে চারটি লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশ হস্তান্তরের সময় প্রত্যেকের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার করে টাকা দিচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শামসুজ্জামান।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানান, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আর আহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার রেলমন্ত্রী দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে এ ঘোষণা দেন। রেলওয়ে সচিব মোহাম্মদ মোফাজ্জেল হোসেন, জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, ৬০ বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনও ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন। এসময় রেলমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি এবং রেল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চারটিসহ মোট পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিতু মরিয়মকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া রেলওয়ের পক্ষ থেকে আরও দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি তূর্ণা নিশীথার চালক সিগন্যাল অমান্য করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেবে। এরপর কারণ জানা যাবে।’

এর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশ দাফনের জন্য নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়ার কথা জানান রেল সচিব।

এ ঘটনায় তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের লোকোমোটিভ মাস্টার (চালক) ও সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

যে শিশুর ছবি কাঁদাচ্ছে সবাইকে

মায়ের কোল সন্তানের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল। নিজের সবটুকু দিয়ে একজন মা তার সন্তানকে লালন-পালন করেন। তবে সেই মা-ই যখন সন্তানের

টকশোতে হামলার শিকার বিএনপি নেতা

সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী তাকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউজে নিয়ে যান। হামলাকারীরা পলাশের গাড়িটিও ভাঙচুরের চেষ্টা করে।

এমপি মোকতাদিরের সমালোচনায় আওয়ামী লীগ নেতারা

বিভিন্ন বদলি ও টেন্ডার (দরপত্র) থেকে টাকা খান। চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকেও টাকা খান, একটা লোক বলতে পারবে না যে মেধা ও পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছে।

মন্তব্য লিখুন...

Top