22/11/2019 , ঢাকা

প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন গ্রেড নিয়ে যা বললেন সচিব


প্রকাশিত: 22/11/2019 11:26:38| আপডেট:

স্টার মেইল, ঢাকা: দেশের প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ও সরকারি কাজের কারণে প্রধান শিক্ষকরা প্রায়ই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। এ সুযোগে বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে ‘ফাঁকিবাজ’ শিক্ষকরা ক্লাস নেন না। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অন্য দাফতরিক কাজও বিঘ্নিত হয়। বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এছাড়া দুটি নিয়োগ বিধিমালা সমন্বয় করে শিক্ষক এবং সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের (এটিইও) গ্রেড উন্নীত করার চিন্তা চলছে। এতে শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) পরিচালক পর্যন্ত পদসোপান করার চিন্তাও আছে। বিষয়টি বাস্তবায়ন হলে প্রধান শিক্ষকরা দশম আর এটিইওরা নবম গ্রেড পাবেন। অন্য শিক্ষক এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও বেতন গ্রেডে পরিবর্তন হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে। এখন দ্রুততার সঙ্গে পদ সৃষ্টিসংক্রান্ত অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করার কাজ চলছে। এ পদ অনুমোদন পেলে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দশম ও একাদশ গ্রেডের জন্য শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন। এটি পূরণ করতে বিদ্যমান বিধিমালার সংশোধন দরকার। সেটি সময়সাপেক্ষ। তাই এখন আপাতত সমাধানের একটি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সেটি হচ্ছে, সবাইকে একই গ্রেডে নিয়ে আসা। পরে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে গ্রেড উন্নীত করা হবে শিক্ষক-এটিইওদের। বিধিমালা তৈরি হয়ে গেলে তাদের পদসোপান করা হবে। তখন গ্রেডের কোনো সমস্যা থাকবে না। বরং সহকারী শিক্ষকরাও যোগ্যতা সাপেক্ষে পরিচালক পর্যন্ত হতে পারবেন। তাই তাদের এজন্য একটু সময় দিতে হবে।

তবে উল্লিখিত পদটি সহকারী শিক্ষকরা চান না বলে দাবি করেছেন গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক শামসুদ্দীন মাসুদ। শনিবার তিনি বলেন, ‘আমরা তো ওই পদ চাই না। কেননা, ওই পদ সৃষ্টি করা হলে আমাদের গ্রেড উন্নীত হবে না। পদ সৃষ্টি করা হলে ৬৬ হাজার শিক্ষক উপকৃত হবেন, বাকি প্রায় সোয়া ২ লাখ বঞ্চিত হবেন।’

তিনি বলেন, ‘তবে সহকারী প্রধান শিক্ষকদের আলাদা গ্রেড না দিয়ে সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে একই গ্রেড দেয়া হয় তাহলে আমরা মানব। বড় জোর সহকারী প্রধান শিক্ষকদের একটি করে ইনক্রিমেন্ট দেয়া যেতে পারে।’

অবশ্য সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টি খুবই জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের প্রধান মুখপাত্র বদরুল আলম।

তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষকদের সরকারি নানা কাজে প্রায়ই বিদ্যালয়ের বাইরে থাকতে হয়। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগ করলে অনেকেই দাফতরিক কাজ ছেড়ে গল্পগুজব করেন। শিক্ষার স্বার্থে এ পদ জরুরি। তবে শিক্ষকদের গ্রেড পরিবর্তন সংক্রান্ত দাবি বিবেচনায় রেখেই পদটি সৃষ্টি করতে হবে।

প্রধান শিক্ষকদের জন্য দশম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেডের দাবিতে বর্তমানে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা। এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে উল্লিখিত বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ। দাবি আদায়ে তারা ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়ে রেখেছেন। এর মধ্যে দাবি মানার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পেলে তারা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা বর্জন করার হুমকিও দিয়েছেন। ১৭ নভেম্বর শুরু হয়ে পিইসি পরীক্ষা চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। এতে অংশ নেবে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী।

এ অবস্থায় বরফ গলাতে ইতিমধ্যে শিক্ষকদের সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এফএম মনজুর কাদির আলোচনায় বসেন। কিন্তু শিক্ষকরা তাদের দাবিতে অনড় আছেন। পাশাপাশি তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেয়ার ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিষদের দুই নেতা বদরুল আলম ও শামসুদ্দীন মাসুদ।

২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণি (উল্লিখিত গ্রেড) দেয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন। এরপর মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছিল। এতে প্রধান শিক্ষক এবং এটিওরা একই গ্রেডে চলে আসেন। তখনই দেশের দু-একটি স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে শুরু করে প্রধান শিক্ষক ও এটিইওদের মধ্যে। এর মধ্যে একটি ঘটনা ঘটে শরীয়তপুরে। সেখানে এক প্রধান শিক্ষক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের এটিইওকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আছে। কয়েকটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তখন প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির মূল গ্রেড বা দশম গ্রেড দেয়া থেমে যায় বলে জানা গেছে।

এ অভিযোগটি স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি বদরুল আলম বলেন, শরীয়তপুরের ঘটনার কারণে এটিইওদের সমান গ্রেড দিতে চাচ্ছে না। কিন্তু এটা সাধারণ চিত্র নয়। ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত হতে পারে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় শ্রেণি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এগারোতম গ্রেডকে দ্বিতীয় শ্রেণির বলার চেষ্টা করছে মন্ত্রণালয়। কিন্তু আমরা এখনও তৃতীয় শ্রেণির কোডে বেতন পেয়ে থাকি। কোনো ভাতাও পাই না।

সূত্র জানায়, তবে প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড আর সহকারী শিক্ষকদের দ্বাদশ গ্রেড দেয়ার চিন্তাভাবনা মন্ত্রণালয়ের আছে। এ ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষকদের জন্য একাদশ গ্রেড দেয়া হবে। তখন এটিওরা পাবেন নবম গ্রেড। এজন্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পৃথক দুটি নিয়োগ নীতিমালা সমন্বয় করা হবে। এ কাজটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সহকারী প্রধান শিক্ষকরা দ্বাদশ, প্রধানরা একাদশ আর সহকারী শিক্ষকরা ত্রয়োদশ গ্রেডে বেতন পাবেন। এমন একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব।

বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন ১১তম গ্রেডে। আর প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১২তম গ্রেডে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা এখন বেতন পাচ্ছেন ১৪তম গ্রেডে আর প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১৫তম গ্রেডে। প্রস্তাবে প্রধান শিক্ষকদের একাদশ ও সহকারীদের ত্রয়োদশ গ্রেডের কথা আছে।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

৯ ভুয়া পরীক্ষার্থীসহ এক শিক্ষক আটক

শিক্ষক নুরুল ইসলামকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ভবন, শ্রেণিকক্ষ বা শিক্ষার্থী কিছুই নেই, তবুও এমপিওভুক্ত কলেজ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হতে হলে বেশ কিছু নীতিমালা মানতে হয়। তবে এমন কিছু প্রতিষ্ঠান এবার এমপিওভুক্তির তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে

প্রাথমিকের পরীক্ষায় ‘বহিষ্কার’ কেন অবৈধ নয়: হাই কোর্ট

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় শিশুদের বহিষ্কার করা কেন অবৈধ হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। সেই সঙ্গে

মন্তব্য লিখুন...

Top