23/10/2019 , ঢাকা

প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতাকে হুইপপুত্রের হুমকি (ভিডিও)


প্রকাশিত: 23/10/2019 19:15:42| আপডেট:

স্টার মেইল, চট্টগ্রাম: ক্লাবে ক্যাসিনো অভিযানের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী। এবার চট্টগ্রামের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম চৌধুরীকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে হুইপপুত্র নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের বিরুদ্ধে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রায় আট মিনিটের এঘটনার কথোপকথনে শুরুতে স্বাভাবিক হলেও এক পর্যায়ে উত্তেজনা চরমে উঠে। কথোপকথনের পুরো সময় দিদারুল আলম শান্ত থাকলেও হুইপপুত্র নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ‘চোয়ারাই দাঁত ফেলাই দিয়ুম’ বলে শাসান দিদারুল আলমকে।

এদিকে ঘটনায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা চেয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি আবেদন করেছেন চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ও নগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম।

দিদারুল আলম অভিযোগে করেন, তিনি আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সাল থেকে তাকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হলেও ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রাখা হয়। সেই হিসেবে প্রিমিয়ার ব্যাংক জিইসি মোড় শাখায় ‘চট্টগ্রাম আবাহনী ফুটবল কমিটি’ নামে তিনিসহ তিনজনের একটি যৌথ হিসাব খোলা হয়। হিসাবের স্বাক্ষরকারী হিসাবে ক্লাবের মহাসচিব শামসুল হক চৌধুরী, ম্যানেজার সাইফুদ্দিনের পাশাপাশি দিদারুল আলমের স্বাক্ষর নেয়ারও কথা সব ধরনের লেনদেনে।

কিন্তু একাউন্ট থেকে মাঝে মাঝে ১০-১২ লাখ টাকা তুলে নিয়ে যায় এবং তার নির্বাচনী কাজে খরচ করে। দীর্ঘদিন ধরে তাকে অন্ধকারে রেখে ওই হিসাব থেকে টাকা-পয়সা লেনদেন করা হচ্ছিল। সেজন্য দিদারুল এ মাসে অ্যাকাউন্ট বন্ধের আবেদন করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সব ধরনের লেনদেন স্থগিত রাখেন। এরপর এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে হুইপ শামসুল হকের ছেলে নাজমুল করিম শারুন গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা দিদারুলের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন। কথা বলার এক পর্যায়ে বন্ধ হওয়া ব্যাংক হিসাব খুলে দিতে তিনি চাপ দিতে থাকেন। সেটা না মানলে প্রবীণ এ ক্রীড়া সংগঠককে গালাগাল ও মারধরের হুমকি দেয়া হয়।

দিদারুল আলম চৌধুরী ও নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের মোবাইলে কথোপকথনের চম্বুক অংশ নিম্নে তুলে ধরা হলো।

দিদারুল : আমি দিদার বলতেছি, তোমার আংকেল, তুমি কি ঢাকা না চিটাগাং?

শারুন : আমি ঢাকা আংকেল।

দিদারুল : শোন, তোমার আব্বা যে পজিশনে গেছে, বুজ্‌ছ, … তুমি ছাড়া তোমার আব্বাকে কাউকে ডিল করতে দিবা না। আমি আল্লাহর রাস্তায় আছি, আমার কাছে ইগো নাই।

শারুন : সব ঠিক আছে, আপনি আংকেল আবাহনীর একাউন্ট বন্ধ করছেন কেন?

দিদারুল : আমার জায়গায় যখন খুটা মারছে,…

শারুন : এগুলো কী টিকবে। আমি কালকে সালাম মুর্শেদী সাহেবকেও বলছি, …কালকেতো… হয়ে যাবে।

দিদারুল : হলে হবে,

শারুন : আপনি বয়েসী একজন মানুষ, আমাকে ফোন দিবেন আপনি…

দিদারুল : শোন শোন, তোমার নাম্বারটা আমার কাছে ছিল না… আমি বলি..

শারুন : আমিতো আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি, আমার আব্বা করুক না করুক।

দিদারুল : আমি যেহেতু পোস্টে নাই, আমার জায়গায় অন্য একজন আছে, তার নামতো যেতে হবে।

শারুন : কোন লেনদেন না করার জন্য আপনি নাকি চিঠি দিয়েছেন..

দিদারুল : না, না, ..

শারুন : কোন দরকার আছে এগুলার…

দিদারুল : দরকারতো কোনটা নাই, তোমার আব্বা

শারুন : জায়গা নিয়ে কোন কিছু হলে আমাকে ফোন দিতেন।

দিদারুল : আমি বলছি মনসুর সাহেবের প্লটটা তোমার আব্বাকে নিয়ে ফেলতে বলো, আমি বলছি…আমরা ভাগ করলে হবে না, জায়গার মালিক অরজিনালি ম্যাজিস্ট্রেটেরা …

শারুন : আমি চিটাগাং আসতেছি..

দিদারুল : আমরা মার্কেটের মতো করবো…

শারুন : সব দিব, আব্বা তোমাকে খুব পছন্দ করে, দুইদিন পর পর..

দিদারুল : আমার ভাড়াটিয়াকে তোমার আব্বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বের হতে কেমনে বলে…আজকে মোহামেডানের লোকেরা … আমাদের কেন ইনসাল্ট করবে, আমাদের..

শারুন : আপনারাতো ক্লাবের দুঃসময়ে কেউ থাকেন না, আমাদের পরিবারের টাকা খরচ করে সব করতে হয়।

দিদারুল : তোমার লিমিটেড কোম্পানি কনসেপ্টে বিশ্বাস করিনা বলে সবসময় দূরে ছিলাম

শারুন : আর আংকেল আপনি ওই চিঠিটা উইথড্র করে ফেলেন। ঐটা দরকার নাই

দিদারুল : ঐটা ক্লাবের বিষয়। ঐটা আমি তোমার আব্বার সাথে বসে কথা বলবো। ওকে।

শারুন : ওইগুলা ওইগুলা দরকার আছে শুধু শুধু?

দিদারুল : আশ্চর্য কথা এনা। আমার যে..

শারুন : ওইটা দিয়ে কিছু হবে যে না। এটা আপনার প্রতি আমাদের একটি ক্ষোভ থাকবে এই আর কিছু না

দিদারুল : না হইলে মনে করো আমার একটা আপত্তি থাকলে ভবিষ্যতে

শারুন : ঠিক আছে আপনার আপত্তি আপনি রাখেন। আমরা এইরকম কতো আপত্তি দিতে পারি না বিভিন্ন জায়গায়

দিদারুল : ঠিক আছে। তুমি রোববারে আসনি।

শারুন : আপত্তি কি এখানে আপনি একা দিতে পারেন নাকি? আপত্তি তো আমরাও দিতে পারি। ঠিক আছে আংকেল

দিদারুল : ক্লাবের ব্যাপারে তোমার আব্বার সাথে বসে কথা বলবো

শারুন : ক্লাবের ব্যাপারে কিসের কথা? ক্লাবের ব্যাপারে যা কথা হওয়ার হইছে আর কথা বলার দরকার নেই। আপনি আপনার ক্ষমতা দেখাইছেন তো, এখন আমাদেরটা আমরা দেখাবো।

দিদারুল : ক্ষমতা-টমতা কিছু না।..

শারুন : দেখাইছেন তো। আপনি ক্ষমতা দেখাচ্ছেন না?

দিদারুল : আমাদের সেইফের জন্য করতে হবে না?

শারুন : আমরা যদি ক্ষমতা দেখাই আপনি কি এক পারসেন্টও টিকতে পারবেন?

দিদারুল : না না, আমি ১০০% টিকতে পারবো। শোন আমি হইলাম শেখ মুজিবের আদর্শিক সন্তান।

শারুন : এগুলা এগুলা আংকেল এইসব এইসব এইসব গালগোল অন্য জায়গায় কইরেন। আপনি আমার সাথে কইরেন না। আমি সম্মান করি, সম্মান নিয়ে থাইকেন।

দিদারুল : তোমার আব্বা তো জাতীয় পার্টি করে, এখন আওয়ামী লীগে আইসা……….

শারুন : এগুলা শেখ হাসিনা বুঝবে। আপনার বোঝার দরকার নাই।

দিদারুল : আমি যেখানে…

শারুন : রাখেন মিয়া ফালতু

দিদারুল : ক্ষমতা আমি দেখাবো না কে দেখাবে? আমরা তো শাহজাদা, সাগরেদ না। আমরা অরজিনাল মানুষ।

শারুন : আমি আপনাকে সম্মান দিয়ে কথা বলছি গায়ে লাগতেছে না?

দিদারুল : আমি তোমাকে এইজন্যই ফোন দিই নাই। তুমি এক কাজ করো রোববারে আইসা

শারুন : রাস্তাঘাটে যখন প্যান্ট শার্ট খুইলা দিমু রাস্তাঘাটে তখন বুঝবেন।

দিদারুল : অ্যা…

শারুন : বেয়াদবি তো এখনও দেখেন নাই। আমি এতক্ষণ সম্মান করে কথা বলতেছি আপনার গায়ে লাগতেছে না? আপনি উল্টাপাল্টা কথা বলতেছেন কিসের জন্য?

দিদারুল : উল্টাপাল্টা কী বললাম?

শারুন : অ্যা জাতীয় পার্টি কি, আপনার দরকার কি এগুলা নিয়ে?

দিদারুল : আরে শোন তোমার বাবা বিএনপি-যুবদলে যুবদলে, এরপর জাতীয় পার্টি কইরা এখন..

শারুন : গালবাজি যেডে এডে গরিবি রাস্তাঘাটত চোয়ারাই গালর দাঁত বেয়াগ্‌গুন ফেলাই দিইয়ুম। বেয়াদব হডিয়ার!

(গালবাজি যেখানে-সেখানে করবি রাস্তাঘাটে চড় মেরে মুখের দাঁত সবগুলো ফেলে দেবো। বেয়াদব কোথাকার!)

দিদারুল : এরপরে জাতীয় পার্টি গরি

শারুন : এই মিয়া তোরে রাস্তাত ধরি পিডিব মাইনস্যে। বেয়াদব! তুই আঁরে ফোন কিল্লাই দিয়ছ দে? এই তুই আঁরে ফোন কিল্লাই দিয়ছ দে? তোরে আঁই ফোন দিতো হয়লাম না? তুই আঁরে ফোন কিল্লাই দিয়ুছ?

(এই মিয়া তোকে রাস্তায় ধরে পেটাবে মানুষ। বেয়াদব! তুই আমাকে ফোন কেন দিয়েছিস? এই তুই আমাকে ফোন কেন দিয়েছিস? তোকে আমি ফোন দিতে বলেছিলাম? তুই আমাকে ফোন কেন দিয়েছিস?)

দিদারুল : আমি তো অর্জিনাল।

শারুন : তোরে আঁই ফোন দিতো হয়লাম না? তুই আঁরে ফোন কিল্লাই দিয়ুছ?

(তোকে আমি ফোন দিতে বলেছিলাম? তুই আমাকে ফোন কেন দিয়েছিস?)

দিদারুল : এই দেখ না তোমার বেসিক যেটা

শারুন : এই বেটা আমাকে ফোন দিছস কিসের জন্য? উল্টাপাল্টা কথা বলছ কিসের জন্য? (উত্তেজিত)

দিদারুল : সেটা রাস্তার ছেলে..তোমার বাপে জন্ম দিছেতো, এটাই তো তোমাদের বেসিক

শারুন : তুমি আমারে ফোন দিছ কেন? ফালতু কোথাকার।

দিদারুল : ফোন দিছি তোমারে

শারুন : তোমারে এতক্ষণ সম্মান করে কথা বলছি না আপনারে..

দিদারুল : জাতীয় পার্টি বলাতে তুমি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলা কেন?

শারুন : সম্মান করে কথা বলি গায়ে লাগে না,

দিদারুল : তোমার বাপেরে বিচ্ছু সামশু নাম দিছেদে জিয়াউর রহমান

শারুন : আমার বাপে যেটা করবে করুক না। আমার বাবা হুইপ। তুমি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতেছ, কথা কম বল।

দিদারুল : রাস্তাঘাটে তুঁই প্যান্ট খুলিবি দে ব্যাডা! (রাস্তাঘাটে তুই প্যান্ট খুলবি ব্যাটা!)

শারুন : এ্যা খুলে ফেলবে মানুষজন, আমি খুলবো না, মানুষজন খুলবে জে..

দিদারুল : মানুষজনকে আসতে বলো না..

শারুন : প্যান্ট খুলে দিবে যে, এইসব গালবাজি করে করে..

দিদারুল : তোমার সামনে.. কে আসবে বুজছ..

শারুন : গালবাজি জায়গায় জায়গায় আমার সাথে করিয়েন না, আমার আব্বার সাথে করছেন, আমার সাথে এইসব গালবাজি কইরেন না। আপনার এইসব গালবাজি শুনার জন্য প্রস্তুত না আমরা।

দিদারুল : আচ্ছা, তুমি সাংঘাতিক ছাড়ায়ে গেছ..

শারুন : আপনি লাইনে কথা না বলে বেলাইনে কথা বলছেন কিসের জন্য?

দিদারুল : আচ্ছা ঠিক আছে, ওকে, আইচ্ছা

শারুন : লাইনে কথা বইলেন।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

ফেসবুক পোস্টের কারণে বহিষ্কৃত আ.লীগ নেতা যা বললেন

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চুক্তিগুলো নিয়ে ফেসবুকে লেখা পোস্ট করায় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্যপদ থেকে

ওবায়দুল কাদেরের সব বিষয় জানার প্রয়োজন নেই: জয়নাল হাজারী

ঠিকই তো আছে যে এটা নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আলাপ করার কোনও দরকার নেই। সব বিষয় উনার জানার প্রয়োজন নেই।

আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় কোটি টাকা, ৭৩০ ভরি সোনা

সিন্দুক খুলে নগদ ১ কোটি পাঁচ লাখ টাকা, ৭৩০ ভরি সোনার গয়না পাওয়া যায়। পাশাপাশি দুইজনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় দুইটি পিস্তল, দুইটি এয়ারগান ও একটি শটগান।

মন্তব্য লিখুন...

Top