1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. mahir1309@gmail.com : star mail24 : star mail24
  3. sayeed.fx@gmail.com : sayeed : Md Sayeed
  4. newsstarmail@gmail.com : Star Mail : Star Mail
পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, দুটি জেলা পুরোপুরি লন্ডভন্ড | Starmail24




পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, দুটি জেলা পুরোপুরি লন্ডভন্ড

স্টার মেইল ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

ভয়াল গতিতে সুন্দরবনে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়ে বলে জানিয়েছে দিল্লির আবহাওয়া ভবন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, সুন্দরবনে আঘাত হানার সময় ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণনের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫৫-১৬৫ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার ছিল। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে কলকাতায় সেই ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৩৩ কিলোমিটার। এর জেরে লন্ডভন্ড পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কলকাতাসহ দুই ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে।

হাওড়া, হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অবস্থাও ভয়াবহ। হাজার হাজার কাঁচাবাড়ি এবং গাছপালা ভাঙার খবর আসছে এই সব জেলা থেকে। তবে বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এর অনেক গুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

বুধবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভূমিতে ঢুকে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। দিল্লির মৌসম ভবন জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন উপকূলে আছড়ে পড়ে আম্পান।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের পরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অর্ধেকটা ঢুকে পড়ে স্থলভাগে। সাড়ে ৬টার মধ্যে পুরোপুরিভাবে সুন্দরবন এলাকায় ঢুকে পড়ে।

আম্পানের প্রভাবে ইতিমধ্যেই দুই ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক জায়গা থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার পাশাপাশি উড়ে গিয়েছে চাল। ভেঙে পড়েছে গাছপালা। উপকূল এলাকায় সমুদ্রে বেড়েছে জলোচ্ছ্বাস।

সকাল থেকেই ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয় গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে। পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গায় প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ের প্রভাবও বাড়তে থাকে। দিঘায় সকাল থেকেই সমুদ্র উত্তাল। প্রবল জলোচ্ছ্বাস শুরু হয়। গাছপালা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জায়গায় কাঁচাবাড়ি ভেঙে যায়। সমুদ্রবাঁধও কিছু জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে।

দিঘার পাশাপাশি তাজপুর, মন্দারমণি, রামনগর, খেজুরিতেও আম্পানের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি শুরু হয়। উপকূলীয় অনেক জায়গাতেই বাঁধ ভেঙে সমুদ্রের জল ঢুকে পড়ে। এগরায় কাঁচাবাড়ি ভেঙে পড়ে। সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় অন্যত্র। কাঁথি এবং মহিষাদলের বিভিন্ন জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ে।

পূর্ব মেদিনীপুরের ছত্রধরা গ্রামের শ্যামল জানা বলেন, ‘বাড়ির আশপাশে বেশ কয়েকটি বড় বড় গাছ ভেঙে গিয়েছে। বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। বাড়ির একটা অংশে টিনের চাল ঝড়ে উড়ে গেছে। জীবনে এমন ঝড় দেখিনি।’

একই অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন কাঁথির বোধিসত্ত্বজানা। তিনি বলেন, ‘বিকেলে ঝড়ের দাপটে আমার পাকা বাড়ির একাধিক জানলার কাচ ভেঙে পড়ে। গোটা বাড়িতে জল ঢুকে একাকার কাণ্ড। চারদিকে বৃষ্টি এতটাই পড়ছে যে, ধোঁয়ার মতো হয়ে গেছে সব। সেই সঙ্গে প্রবল সোঁ সোঁ আওয়াজের বাতাসে ঘুড়ির মতো উড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন বাড়ির টিনের চাল। ভেঙে পড়ছে গাছ। বাড়ির ছাদে থাকা আমাদের কেবল টিভির অ্যান্টেনাটা উড়ে গেল। অবস্থা খুব খারাপ।’

তাজপুরের এক হোটেলকর্মী সহদেব কালসা সন্ধ্যায় বলেন, ‘ভয়ংক ঝড়, সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি। আমাদের আশপাশের বেশ কয়েকটি হোটেল ও রিসর্টের খড়, টিন এবং অ্যাসবেস্টসের চাল উড়ে গিয়েছে। প্রচুর গাছ ভেঙে পড়েছে। যে ঝড় শুরু হয়েছে, তা এই সন্ধ্যাতেও সমান ভাবে আছড়ে পড়ছে। শুনছি, এর পর আরও একটা ঝড় আসছে।’

দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও সকাল থেকে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ, নামখানা, কাকদ্বীপ—সর্বত্র ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ছিল বৃষ্টি। বেলা বাড়তেই তার দাপট বাড়তে থাকে। ঝড়ের দাপটে ঘড়বাড়ি ভাঙার পাশাপাশি গাছপালা উপড়ে যায়। ভেঙে যায় জেটিও। নামখানার নারায়ণপুরে একটি বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ে। ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কিনা তা এখনও জানা যায়নি। ফ্রেজারগঞ্জে একাধিক বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে। ভেঙে পড়েছে প্রচুর গাছপালা।

বিকেলের পর থেকে ঝড়ের দাপট বাড়ছে বলে দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম জানা। পেশায় মৎস্যজীবী গৌতমবাবু বলেন, ‘সকাল থেকে বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া ছিল। দুপুরের পর থেকে তার দাপট আরও বাড়তে থাকে। তার আগেই আমার বাড়ি অ্যাসবেস্টসের চাল উড়ে যায়। সন্ধের দিকে মনে হচ্ছিল, আমাদেরকেই উড়িয়ে নিয়ে যাবে। এলাকা থেকে একের পর এক পরিচিত জন ফোন করছেন। এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে বলেই শুনছি। সকলেই ভয়ে রয়েছি।’

উত্তর ২৪ পরগনা থেকেও আম্পানের প্রভাবের খবর আসতে শুরু করেছে। হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি হাসনাবাদ, বসিরহাট, বারাসত, বনগাঁ—সকাল থেকেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ছিল। দুপুরের পর থেকে সেই দুর্যোগ আরও বাড়তে থাকে। ঝড়ের দাপটে অনেক জায়গাতেই গাছপালা ভেঙে পড়ে। জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচাবাড়ি ভেঙে পড়েছে অনেক জায়গায়।

বসিরহাটের বাসিন্দা তাপস ঘোষ বলেন, ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে। এ রকম ঝড় কখনও দেখিনি। চোখের সামনে পর পর গাছপালা ভেঙে যাচ্ছে, উপড়ে যাচ্ছে। কোথায় গিয়ে শেষ হবে, বুঝতে পারছি না।’




এই বিভাগের আরো সংবাদ