12/11/2019 , ঢাকা

নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী যা যা বললেন


প্রকাশিত: 12/11/2019 01:40:26| আপডেট:

স্টার মেইল, ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নীতিমালার নির্দেশনা ও চাহিদা পূরণ করতে পারা ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এমপিওভুক্ত করা হয়েছে, এখন না পড়ালেও টাকা পাওয়া যাবে, শিক্ষকদের এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। কারণ শিক্ষার মান ধরে রাখতে না পারলে এমপিওভুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হবে। সবাইকে সেটা মনে রাখতে হবে।’

বুধবার (২৩ অক্টোবর) গণভবনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিমালা করা এবং সে অনুযায়ী স্কুলগুলোর যাচাই-বাছাই করতে কিছু সময় লেগেছে। যাচাই-বাছাই করে আমরা ২ হাজার ৭৩০ প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করেছি। আগামীতে যারা এমপিওভুক্ত হতে চান, তাদের অবশ্যই নীতিমালার নির্দেশনা পূরণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কোথায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে, কীভাবে শিক্ষক নিয়োগ হবে, সেই পরিকল্পনা করেছি আমরা। এখন যত্রতত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। কিন্তু সবগুলোর মান ভালো নয়। স্কুলগুলো যাতে তাদের মান ঠিক রাখে, তাই আমরা নীতিমালা তৈরি করেছি। এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকরা আন্দোলনও করেছেন। আমরা বলেছিলাম সবই করবো। আমরা সব করেছিও।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইচ্ছে হলো কিংবা রেশারেশির বা রাজনৈতিক কারণে স্কুল তৈরি হয়। এমপিওভুক্ত বা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির শিক্ষকদের টাকা প্রতিষ্ঠানে চলে যেত। আমরা ঠিক করলাম যার যার বেতন তার তার কাছে যাবে। পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা পৌঁছে যাবে। এরপর মাসিকভিত্তিতে যখন টাকা পাঠালাম, তখন ৬০ হাজার শিক্ষককে আর পাওয়া গেল না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছি। তাই শিক্ষা খাতে বাজেটে বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি দিয়েছি। স্কুলে স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করে দিচ্ছি, যাতে আধুনিক শিক্ষা থেকে ছেলেমেয়েরা বঞ্চিত না হয়। অনলাইনে অনেকে চাকরি করতে পারছে। আমরা সেভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। কওমি মাদ্রাসাগুলোতেও সনদের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। সনদ না থাকাতে তারা কাজ পেতো না। প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। তারাও এদেশের সন্তান, তাদের কথাও চিন্তা করতে হবে।’

তিনি বলেন, কিছু জায়গা বিশেষ করে হাওর-বাঁওড়, পাহাড়, চর ও দুর্গম এলাকার কথা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সেখানে নীতিমালা কিছুটা শিথিল করে দেওয়া হয়। এসব জায়গায় আমরা আবাসিক স্কুল করে দিতে চাই। যাতে সেখানে থেকে শিশুরা লেখাপড়া করতে পারে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এমপিওভুক্তির কাজের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মনি এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও উপস্থিত ছিলেন এ অনুষ্ঠানে ।

এমপিও বা মান্থলি পেমেন্ট অর্ডারের তালিকাভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের বেতনের একটি অংশ সরকার থেকে পান। এ জন্য প্রথমে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করা হয় এবং শর্ত পূরণের ভিত্তিতে সেই প্রতিষ্ঠানের যোগ্য শিক্ষকরা এমপিও তালিকায় আসেন।

সবশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেছিল সরকার। এরপর দীর্ঘদিন এমপিওভুক্তি বন্ধ থাকায় আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এমপিও বা মান্থলি পেমেন্ট অর্ডারের তালিকাভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের বেতনের একটি অংশ সরকার থেকে পান। এ জন্য প্রথমে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করা হয় এবং শর্ত পূরণের ভিত্তিতে সেই প্রতিষ্ঠানের যোগ্য শিক্ষকরা এমপিও তালিকায় আসেন।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে কয়েকটি শর্ত দিয়ে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে আলাদা বরাদ্দ রাখা হবে বলে বাজেটের আগে জানিয়েছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু বাজেটে এমপিও নিয়ে কোনো ঘোষণা না থাকায় আমরণ অনশনে বসেন নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাদের আন্দোলনের মধ্যে গতবছর ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিওভুক্তির কার্যক্রম দ্রুত শুরুর কথা সংসদে জানান।

এরপর এ বছর জুন মাসে ২০১৯-২০ সালের বাজেট ঘোষণা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, দীর্ঘদিন পর এমপিওভুক্তির কার্যক্রম আবার শুরু হচ্ছে এবং নতুন বাজেটে সেজন্য বরাদ্দও রাখা হচ্ছে।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

ঝিনাইদহে ছাত্র দিয়ে টয়লেট পরিষ্কারের ভিডিও ভাইরাল

কিছুদিন আগে শামীম নামে এক স্যারকে ডিম দিতে না পারায় তাকেও মেরেছিল। ৪র্থ শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী নাইম হোসেন জানায়, তাকেও স্কুলের কলের পাড় পরিষ্কার করতে

প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন গ্রেড নিয়ে যা বললেন সচিব

বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন ১১তম গ্রেডে। আর প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১২তম গ্রেডে।

একই সঙ্গে দুটি চাকরি করছেন শিক্ষক

দুই প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে চাকুরি করার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. নূরে আলম বিপ্লবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার

মন্তব্য লিখুন...

Top