1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. mahir1309@gmail.com : star mail24 : star mail24
  3. sayeed.fx@gmail.com : sayeed : Md Sayeed
  4. newsstarmail@gmail.com : Star Mail : Star Mail
দাকোপে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার পানি বিক্রি | Starmail24




দাকোপে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার পানি বিক্রি

ষ্টার মেইল রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৫ মে, ২০১৯

বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি: প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের উদ্যোগে খুলনার দাকোপের বিভিন্ন এলাকায় ৮টি লবণ পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। প্লান্টগুলো থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার পানি ক্রয় করছে এলাকার জনসাধারণ। এতে সুপেয় পানি সংকট কিছুটা নিরসন হবে বলে এলাকাবাসী মনে করছে।

এলাকাবাসী জানায়, ৩টি পৃথক দ্বীপের সমন্বয় এই উপজেলা গঠিত এবং এর চার পাশের নদীতে লবণ পানির অব্যহত চাপ থাকায় খরা মৌসুমে সুপেয় পানির চরম সংকট দেখা দেয়। পানি সংকটের বিষয়টি বিবেচনা করে উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের ইসিআর ওয়াশ প্রকল্পের আওতায় ৮টি লবণ পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট স্থাপন করে। যার মধ্যে একটির কাজ এখনো পর্যন্ত চালমান। উপজেলা সদর চালনা পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে এপ্লান্টগুলো স্থাপন করা হয়েছে। প্লান্টগুলো হল চালনা পৌরসভা ও বানিশান্ত ইউনিয়নে ২টি করে, পানখালী, তিলডাঙ্গা, কামারখোলা এবং দাকোপ ইউনিয়নে ১টি করে প্লান্ট। এর মধ্যে ৩টি প্লান্ট সৌর বিদ্যুৎ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে বলে সূত্রে জানা যায়।

প্লান্টগুলো স্থাপনে রুপান্তরের মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ প্রায় ৬৩ হাজার টাকা। প্লান্টগুলো স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয় যা পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত হয়ে আসছে। কেবল একটি মাত্র প্লান্ট খোনা খাটাইল মহিলা সমিতি দ্বারা পরিচালিত। প্রতিটি প্লান্ট থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ হাজার লিটার লবণ পানি বিশুদ্ধ করে সরবরাহ করা সম্ভব। এগুলো থেকে প্রতিদিন এলাকার শত শত লোক ৪০ পয়সা লিটার দরে বিশুদ্ধ পানি ক্রয় করে চাহিদা মিটিয়ে আসেছ। এছাড়া এনজিও হীড বাংলাদেশেরও ২টি প্লান্টে অনুরুপ এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি প্লান্ট অকেজ অন্যটির কাজ চলমান। তাছাড়া এনজিও রূপান্তর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৪৮টি স্কুলে রেইন ওয়াটার হার্ভেটিং তৈরী করে দিয়েছে যা থেকে ছাত্র-ছাত্রীরাও সুপেয় পানির চাহিদা মেটাচ্ছে বলে সূত্রে জানা যায়।

খোনা খাটাইল মহিলা সমিতির সাধারন সম্পাদক শিলা বাওয়ালী বলেন, এই এলাকার ২৮০টি পরিবার স্বল্প মূল্যে (৪০ পয়সা লিটার) প্লান্ট থেকে পানি ক্রয়ে করে সুপেয় পানির চাহিদা মিটিয়ে আসছে। এতে অধিকাংশ লোক নানা পানি বাহিত রোগ থেকে মুক্ত আছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এলাকার সকল পরিবারসহ গোটা পানখালী ইউনিয়ন বিশুদ্ধ নিরাপদ পানির আওতায় আসবে বলে তিনি মনে করেন।

বানিশান্তা ঢাংমারী নতুন খ্রীষ্টানপাড়া প্লান্ট কেয়ারটেকার নিউটন মন্ডল জানান, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ক্ষমতা অনেক কম। এখন তিনি ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার লিটারের বেশি পানি দিতে পারেন না। যে কারনে অনেকে পানি নিতে এসে না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। অনেক বেশি উৎপাদন করতে পারলে প্রতিদিন তিনি ১০ থেকে ১২ হাজার লিটার পানি বিক্রি করতে পারতেন বলে জানায়।

রূপান্তরের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আশিক রুবাইয়াত বলেন, লবণ পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্টগুলো থেকে এলাকার জনসাধারণ সুপেয় পানির চাহিদা মেটাচ্ছে। তাছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষে বিজনেস মডেলে ২টি সুপেয় পানির প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে যার মধ্যে একটি খোনা খাটাইল মহিলা সমিতি অন্যটি বাণিশান্তা আশার প্রদীপ মহিলা সমিতি যেটির কাজ চলমান। বার বার দূর্যোগের আঘাতে জরাজীর্ণ এ উপজেলায় সুপেয় পানির নিশ্চয়তার পাশাপাশি নারীদের স্বনির্ভরতা ও ক্ষমতায়ন সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. মিলন ফকির জানান, যেহেতু এই অঞ্চল লবণাক্ত এলাকা সেহেতু লবণ পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্টগুলো খুব ভাল কাজ করবে। আর এতে জায়গাও অনেক কম লাগে আবার পুকুরে জায়গা বেশি লাগে তাও মেলেনা। তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছেন আগামীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরও এই প্লান্ট স্থাপন করবে বলে জানান।




এই বিভাগের আরো সংবাদ