1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. mahir1309@gmail.com : star mail24 : star mail24
  3. sayeed.fx@gmail.com : sayeed : Md Sayeed
  4. newsstarmail@gmail.com : Star Mail : Star Mail
দাকোপে তরমুজ চাষে ব্যাপক লোকসানে কৃষকরা দিশেহারা | Starmail24




দাকোপে তরমুজ চাষে ব্যাপক লোকসানে কৃষকরা দিশেহারা

ষ্টার মেইল রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৫ মে, ২০১৯

বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি: ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এবার খুলনার দাকোপের বিভিন্ন এলাকার শত শত কৃষক তরমুজ চাষে ব্যাপক লোকসানে পড়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। মারাত্মক ভাবে ঋণের বেড়াজালে জড়িয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছেন।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এবার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। চাষের পর প্রায় সব জমিতে তরমুজের বীজ রোপন করা হয়। কিন্তু কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে তরমুজের বীজতলা পানিতে তলিয়ে অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। প্রধানত জলাবদ্ধতা এবং পানি নিস্কাশন অব্যবস্থাপনার কারনে এমন অবস্থার সৃষ্টিটি হয়েছে বলে কৃষকরা জানান। এঘটনার পর প্রায় এলাকার সকল প্রান্তিক চাষীরা ঋনের বেড়াজালে জড়িয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অল্প কিছু কৃষক পূনরায় ধার দেনা করে তরমুজের বীজ রোপন করে। এতে গোটা এলাকায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হতে পারে এবং এসব জমিতে ফলনও হয়েছে মোটামুটি ভাল বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়।

হরিণটানা এলাকার কৃষক মনোরঞ্জন মন্ডল বলেন প্রথমবার বৃষ্টির পানিতে বীজতলা তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় আবার ধার দেনা করে ৮৪ হাজার টাকা খরচ করে ৭ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার তরমুজ গাছে কোন ফল আসেনি যে করনে তার চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে বলে জানান।

একই এলাকার কৃষক সমির পাইক জানান প্রথমে তিনি ধার দেনা করে ৮ বিঘা জমিতের তরমুজ চাষ করেন। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর মাত্র আড়াই বিঘায় পুনরায় তরমুজ চাষ করেন। ফলনও হয়েছে ভাল দামও অনেক বেশি অথাৎ তিনি ওই ক্ষেত ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন বলে জানায়।

উপজেলার পশ্চিম বাজুয়া এলাকার কৃষক তপন মন্ডল বলেন তিনি এবার লোন এবং ধার দেনা করে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ২৫ বিঘা জমিতে তরমুজের বীজ রোপন করেন। এতে তার প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষনে সমস্ত তরমুজের বীজতলা পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। প্রধানত তিনি পানি নিস্কাশন অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করে বলে ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর কয়েকটি পাম্প মেশিন দিয়ে জমি থেকে পানি সেচ দিয়ে শুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেও বীজতলা রক্ষা করতে পারেনি। পুনরায় তিনি ৮ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন ফলন তেমন ভাল না কিন্তু এখনো পর্যন্ত তা বিক্রি করতে পারেনি। ফলে ব্যাপক লোকসান খেয়ে ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি কি খেয়ে বাঁচবেন এই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

বাজুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ গাইন বলেন, প্রথমে কৃষকরা মনে অনেক আশা নিয়ে ঘরের খাবার মজুদ ধান বিক্রি, মহাজন, ধার, দেনা ও ব্যাংক, এনজিও থেকে লোন নিয়ে তরমুজ চাষ করে। কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাতে জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে রোপনকৃত বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এতে এলাকার অধিকাংশ কৃষকরা ব্যাপক লোকসান খেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পুনরায় কিছু কৃষক তরমুজ চাষ করে এবং তাতে ভাল ফলন ও দাম পেয়ে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এলাকার অধিকাংশ কৃষক ঋণের বেড়াজালে জড়িয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন অতি বাহিত করছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান এলাকার কৃষকরা এবার ব্যাপক আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এবং প্রায় প্রত্যেক কৃষক লোকসান খেয়েছেন। এসকল কৃষকদের সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগীতা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।




এই বিভাগের আরো সংবাদ