22/11/2019 , ঢাকা

তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


প্রকাশিত: 22/11/2019 11:58:30| আপডেট:

স্টার মেইল, ঢাকা: বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (৪ নভেম্বর)। তার মৃত্যুদিনটিকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও যশোরে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ীকমিটির কয়েকজন সদস্য এদিন যশোরে আয়োজিত স্মরণসভায় অংশ নেবেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানান, সোমবার জেলা বিএনপির উদ্যোগে যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে তরিকুল ইসলামের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সিনিয়র নেতারা অংশ নেবেন।

বিএনপির দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকায় অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা তরিকুল ইসলামের। পুরো দক্ষিণবঙ্গে বিএনপির রাজনীতির পুরোধা ছিলেন অভিজ্ঞ এই রাজনীতিক। ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর যশোর শহরে জন্ম হয় তার। পিতা আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। মাতা মোসাম্মৎ নূরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী।

জানা গেছে, ১৯৬১ সালে তিনি যশোর জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৬৩ সালে যশোর মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় থেকে আইএ পাস করেন। এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৬৯ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তরিকুল ইসলাম ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসাবে যশোর এমএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ সালে সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৬৬ সালে রাজনৈতিক মামলায় তরিকুল ইসলামকে বেশ কিছুদিন কারাবরণ করতে হয়। ১৯৬৮ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের জন্যে তাকে রাজবন্দি হিসাবে ৯ মাস যশোর ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাখা হয়।

বিএনপির দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৯৭০ সালে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন তরিকুল। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী আহূত ফারাক্কা লং মার্চে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৩ সালে তরিকুল ইসলাম যশোর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে তিনি তিন মাস কারাভোগ করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮৬ সালে তাকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এ সময়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৯০’র গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তরিকুল ইসলাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

১৯৯১ সাল থেকে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপালনকালীন তিনি পর্যায়ক্রমে সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, খাদ্য, তথ্য, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন ষ্পষ্টভাষী ও জনদরদী রাজনীতিবিদ। আমৃত্যু তিনি বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

মৃত্যুর পর ঢাকায় তিন দফা এবং যশোরে স্মরণকালের বৃহত্তম নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কারবালা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

যশোর বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সোমবার যশোরে তরিকুল ইসলামের কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ,খতমে কোরআন এবং আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

ঝিনাইদহে শাকসবজি খাচ্ছে গরু

গরুকে কেন শাকসবজি খাওয়াচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় ব্যবসায়ী মিল্টন হোসেন বলেন

ঝিনাইদহে তৃতীয় দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ

বুধবার সকাল থেকে ঝিনাইদহ সকাল থেকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, আরাপপুর, বাইপাস মোড় এলাকায় বাস ও যানবাহণের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

ঝিনাইদহে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার অভিযােগ

স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই তাকে নির্যাতন করতো স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

মন্তব্য লিখুন...

Top