1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. mahir1309@gmail.com : Md Moniruzzaman : Md Moniruzzaman
  3. sayeed.fx@gmail.com : sayeed : Md Sayeed
  4. newsstarmail@gmail.com : Star Mail : Star Mail
শিরোনাম :
প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ে করলেন স্কুলশিক্ষক ইরাকে নতুন করে বিক্ষোভ,পুলিশসহ ৭ জন নিহত বিএন‌পির মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলা খালেদা জিয়া বমি করছেন বেশ কয়েকদিন ধরে: রিজভী নির্বাচনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত যৌন সম্পর্ক করা, সন্তান জন্ম দেওয়া- এর জন্য বিয়ের তো দরকার নেই! যৌন হয়রানি থেকে নারীদের সুরক্ষা দিতে আবিষ্কার অভিনব এক জুতা আরও ১৪ জেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট শেখ হাসিনার জনসভার আগে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা মামলায় ৫ জনের ফাঁসি গভীর রাতে চাচির সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ভাতিজাকে আটক

ঝিনাইদহ সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অনুপ্রবেশ বেড়েছে যে কারণে

ষ্টার মেইল রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৯

স্টার মেইল, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে নারী, পুরুষ ও শিশুদের প্রবেশ যেন থামছেই না। মহেশপুরের জলুলী, পলিয়ানপুর, খোসালপুর সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ঘটছে। বিজিবি কড়া অবস্থানে থাকলেও অনুপ্রবেশ কমছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাকরির সন্ধানে ভারতে গিয়ে কোনও কাজ না পেয়ে এবং ভারতীয়দের কাছে নির্যাতনের শিকার হয়ে তারা বাংলাদেশ ফিরছেন। এনআরসি নিয়ে ভয়েরও ফিরছেন অনেকে। অনুপ্রবেশকারীরা নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবেই পরিচয় দিচ্ছেন।

নভেম্বরে বিজিবি ২৫৪ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭৩ সালের পাসপোর্ট অধ্যাদেশ আইনে মামলা করে জেল-হাজতে পাঠিয়েছে। বিজিবি ও পুলিশও জানিয়েছে, আটককৃতরা বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের বেশিরভাগের বাড়ি খুলনা বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলায়। তারা কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারত গিয়েছিল। বিভিন্ন সমস্যার কারণে তারা এখন আবার অবৈধভাবে ফিরে আসছে।

বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ নভেম্বর পলিয়ানপুর বিওপির টহল দল সীমান্ত পিলার থেকে বাংলাদেশের ভেতরে মহেশপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর কালভার্টের কাছ থেকে ১৬ জনকে আটক করে। একইদিন জুলুলী বিওপির টহল দল সীমান্ত পিলার ৫৩/১-এস থেকে বাংলাদেশের প্রায় ১৫০ গজ ভেতরে মহেশপুর উপজেলার মগদাসপুর গ্রামে পাঁচ জনকে ভারত থেকে অনুপ্রবেশের সময় আটক করে। এছাড়া জলুলী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে থেকে ভারতে যাওয়ার সময় ২২ জনকে আটক করা হয়। ২৬ নভেম্বর ভোররাতে জলুলী ও পলিয়ানপুর বিওপির মাঠপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ৯ জনকে আটক করা হয়। ১৯ নভেম্বর আটক করা হয় ৫ জনকে। এর আগে এই মাসে বিজিবি অন্তত ৭৫ জন নারী, ৬৪ জন পুরুষ, ৬৪ জন শিশুকে আটক করে। নভেম্বরে বিজিবি ২৫৪ জনকে আটক করেছে।

জলুলী সীমান্তবর্তী যাবদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম শহীদুল ইসলাম জানান, ‘যারা এদেশে আসছে তাদের বেশিরভাগই ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও দিল্লিতে গিয়ে কাজ করতো। তাদের অনেকের বাড়ি বাংলাদেশে। আবার অনেকে পাকিস্তানি আমলে গেছেন। যারা আসামে ছিলেন তারা এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন। তাছাড়া সম্প্রতি দিল্লিতে বাবরী মসজিদের রায় ও আসামে এনআরসি হওয়ার কারণে তারা ফিরে আসছে।’ সীমান্তবর্তী ইউপি মেম্বার ও তাদের দলীয় নেতাকর্মীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি এই কথা জানান।

শহীদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর, বাঁশবাড়িয়া, কাজিরবেড়, নেপা, শ্যামকুড় ও স্বরূপপুর এই ছয়টি ইউনিয়ন ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায়। ছয়টি সীমান্ত এলাকার মধ্যে যাদবপুর সীমান্তের কোদলা নদী এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। তাছাড়া এ বছর তেমন বৃষ্টি হয়নি। যার কারণে নদী শুকিয়ে গেছে। ফলে কোদলা নদীর ওপর দিয়ে ভারতীয় ও বাংলাদেশি দালালদের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। শুধু কোদলা নদী সীমান্ত নয়, অন্যান্য সীমান্ত দিয়েও তারা প্রবেশ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ফিরে আসছে তাদের অধিকাংশই মুসলিম। দিল্লিতে বাবরী মসজিদের রায়ের পর সেখানে দাঙ্গা-হাঙ্গামা হতে পারে এমন ঘোলাটে পরিবেশে এবং ভারতে স্থানীয়দের নির্যাতন ও ভয়ভীতির চাপে এসব নারী-পুরুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।’

বিজিবির কথা উল্লেখ করে এই জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘বিজিবি কঠোর অবস্থানে আছে। একটা বিওপিতে অল্প সংখ্যা বিজিবি সদস্য থাকে। তাদের কিছু রুটিন ওয়ার্ক আছে। এছাড়া বিওপিতে বিভিন্ন ধরনের ডিউটি পালন করতে হয়। এরপরও তারা টহলে বের হচ্ছেন। কিন্তু এক দিক দিয়ে টহল দেওয়ার সময় অন্য দিক দিয়ে এসব মানুষ প্রবেশ করছে। যার কারণে অবৈধ প্রবেশ ঠেকানো কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।’

গত ২১ নভেম্বর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অনুপ্রবেশের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে তিনি জানান। সেখানে অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক তিনি তার সীমান্তবর্তী ১ নং, ২নং ও ৯ নং ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করেছেন।

মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের যুবক আহসান হাবিব জানান, ‘সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিদিনই মানুষ অবৈধভাবে যাওয়া-আসা করে। স্থানীয় ভাষায় তাদের ‘ধুড় পাচার’ বলে। ছোট বেলা থেকে আমরা এমনটা দেখে আসছি। বর্তমানে অবৈধ প্রবেশকারীর সংখ্যা একটু বেড়েছে। আটককৃতরা দিল্লি, মুম্বাই, আগ্রা, মধ্যপ্রদেশসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ করতো। সম্প্রতি সময়ে দিল্লিতে বাবরী মসজিদের রায় হওয়ার পর এবং অনেক আগে যারা আসামে গেছেন তারা এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে। যেহেতু তারা আর সেখানে থাকতে পারবে না, এমন আশঙ্কায় তারা ফিরে আসছে। এ কারণেই হঠাৎ করে মহেশপুরের সীমান্তগুলোতে অবৈধ প্রবেশ বেড়েছে। তবে আটককৃতরা প্রায় সবাই বাংলাদেশি।’

এ ব্যাপারে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভুমি) সুজন সরকার বলেন, ‘অবৈধভাবে যারা আসছে তাদের বিজিবি আটক করে পুলিশে দিচ্ছে। প্রচলিত পাসপোর্ট আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। আইনশ্রঙ্খলা সভায় বিজিবি অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে ইউনিয়নে ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের কমিটি গঠনের সহযোগিতা চেয়েছেন।’ আটককৃতরা ভারতীয় অনুপ্রবেশকারী কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’

মহেশপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) রাশেদুল আলম বলেন, আটকৃতদের কেউ অনুপ্রবেশকারী নয়। তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। তারা ভারতে কাজকর্ম করতো। ভারতীয় স্থানীয়দের চাপে এখন চলে আসছে বলে জানিয়েছে তারা। আজ মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত (২৬ নভেম্বর) দুই শতাধিকের অধিক নারী-পুরুষ ও শিশুর বিরুদ্ধে ১৯৭৩ সালের পাসপোর্ট অধ্যাদেশ আইনে মামলা হয়েছে। তাদের সবাইকে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।

মহেশপুর ৫৮ বিজিবি অতিরিক্ত পরিচালক (উপ-অধিনায়ক) কামরুল হাসান বলেন, ‘চলতি মাসে (আজ ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত ) বিজিবি ২৫৪ জনকে আটক করেছে। আটকৃতরা মুসলিম। তারা গিয়েছিল অবৈধভাবে, আবার ফিরেও আসছে অবৈধভাবে।’

হঠাৎ করে অবৈধ প্রবেশ বৃদ্ধির কারণ কী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে ইদানিং সব জায়গায় আলোচনা হচ্ছে। ভারতে মুসলমান তাড়ানোর পলিসি হিসেব তারা এনআরসি করবে, এছাড়া অতি উৎসাহী পুলিশ ও বিএসএফ এদের আগে থেকেই নানা হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। তারা এখন ভয়ে আস্তে আস্তে দেশে ফেরার চেষ্টা করছে। বর্তমানে সীমান্তে অবৈধ প্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া আমরা প্রতিনিয়ত সীমান্তে ঠহল দিচ্ছি।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ