1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. mahir1309@gmail.com : star mail24 : star mail24
  3. sayeed.fx@gmail.com : sayeed : Md Sayeed
  4. newsstarmail@gmail.com : Star Mail : Star Mail
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই : রাষ্ট্রপতি | Starmail24
শিরোনাম :
এমএলএম কোম্পানির সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ঝিনাইদহে গাঁজার গাছসহ ছাত্রলীগ নেতা আটক মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার চাচী ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার স্মরণে দোয়া মাহফিল বিশ্বসেরা গবেষকের তালিকায় বাংলাদেশি সাঈদুর রৌমারীতে নিজস্ব অর্থায়নে ২০০ হাত লম্বা বাঁশের সাঁকো মেরামত ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের দাবি ঝিনাইদহের ভাষা সৈনিক জাহিদ হোসেন মুসা আর নেই মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতির মায়ের মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল ভার্চুয়াল মিট-আপে মালয়েশিয়ায় ৬টি কোম্পানির উদ্বোধন মালয়েশিয়ায় শুরু হচ্ছে বৈধকরণ প্রক্রিয়া, পাসপোর্ট দ্রুত পেতে বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা




জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই : রাষ্ট্রপতি

ষ্টার মেইল রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০

প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ঐক্য। জনগণের ঐক্য, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ঐক্য। যে ঐক্য একাত্তরে আমাদেরকে এক করেছিল, সেই ঐক্যই গড়ে তুলতে হবে সাম্প্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিকতা, অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
বঙ্গবন্ধু’র জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশণে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন। সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট তার দীর্ঘ ভাষণে বঙ্গবন্ধু’র জীবনের নানা দিক, সরকারের সাফল্য ও চলমান বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা ও বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট তার ভাষণ শুরু করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

বাংলাদেশকে জানতে হলে, বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। এই দুই সত্ত্বাকে আলাদাভাবে দেখার চেষ্টা যারা করেছেন তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। আজকের বাস্তবতা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে জাতি এগিয়ে যাক ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে, নোঙ্গর ফেলুক বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলায়’।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবনের প্রতিটি ক্ষণে যেখানেই অন্যায়-অবিচার, শোষণ-নির্যাতন দেখেছেন, সেখানেই প্রতিবাদে নেমে পড়েছেন। কখনো নিজেরএবং পরিবারের গ-ির মধ্যে বাধা পড়েননি। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও গেয়েছেন বাংলা, বাঙালি আর বাংলাদেশের জয়গান। ফাঁসির সেলের পাশেই কবর খুঁড়া হচ্ছে জেনেও বাঙালির স্বাধীনতার লক্ষ্যে ছিলেন অবিচল ও অনড়। আজীবন বাংলা ও বাঙালিকে ভালোবেসে গেছেন, স্থান করে নিয়েছেন মানুষের মনের মনিকোঠায়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের দিনকে ‘ঐতিহাসিক দিবস’ হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। একটি ভাষণ কিভাবে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে, বঙ্গবন্ধুর৭ইমার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ। এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু শুধু স্বাধীনতার ডাকই দেননি বরং মুক্তিযুদ্ধের রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। এ ভাষণ শুধু বাঙালি জাতির জন্যই নয় বরং সারাবিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত-মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণার উৎস।

সংসদ নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, পার্লামেন্টে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে স্পীকার বিব্রত হতেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধু হতেন না। উদার না হলে, গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন না হলে এটা ভাবাই যেত না। ১৯৭৩ সালে পার্লামেন্টে আতাউর রহমান খান, এমএন লারমাসহ বিরোধী দলের কয়েকজন এমপি ছিলেন। তখনও দেখেছি তারা কথা বলতে চাইলেই সুযোগ পেতেন। প্রায় সময় বঙ্গবন্ধুই স্পীকারকে বলে সে সুযোগ করে দিতেন।

বিরোধী দলের প্রতি বঙ্গবন্ধুর আলাদা একটা মনোযোগ ছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছিল। রাজনৈতিক মতাদর্শের যত অমিলই থাকুক না কেন বঙ্গবন্ধু কখনো বিরোধী দলের নেতাদের কটাক্ষ করে কিছু বলতেন না বরং তাদেরকে যথাযথ সম্মান দিয়ে কথা বলতেন। রাজনৈতিক শিষ্টাচার তাঁর জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল। প্রেসিডেন্ট বলেন, বঙ্গবন্ধু সবসময় দেশ ও জনগণের উন্নয়নের পাশাপাশি গণতন্ত্রের উন্নয়ন ও বিকাশের কথা ভাবতেন, গুরুত্বের সাথে বিশ্বাস করতেন সংসদীয় গণতন্ত্রে।

প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করে তার নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এর তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০১৫ সালে এমডিজির অধিকাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ নি¤œ মধ্যআয়ের দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ ২০১৮ সালে প্রথমবারের মত স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ উত্তীর্ণ হওয়ার সকল শর্ত পূরণ করেছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। কিছু কিছু সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। বাংলাদেশ আজ এশিয়ার সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ। পরপর তিন বছর ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক এক-পাঁচ শতাংশে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক দুই-চার শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব না হলেও প্রবৃদ্ধির এ হার ছিল এশিয়া এমনকি বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের চেয়েও বেশি। দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় দুই হাজার চৌষট্টি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও এখন ৪১ বিলিয়ন ডলারের উপরে। দেশ স্বাধীন হবার সময় আমাদের গড় আয়ু ছিল ৪৭, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২বছরের উপরে। প্রাথমিক স্কুলে যাওয়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় শতভাগ। স্বাক্ষরতারহার৭৪ দশমিক ৭শতাংশেউন্নীতহয়েছে। শিশু ওমাতৃ মৃত্যুহারহ্রাস পেয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়েই সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। পোশাক রপ্তানিতে এবংইন্টারনেটভিত্তিক কর্মসংস্থানসৃষ্টিতেবাংলাদেশ আজ বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয়, ছাগলের মাংস উৎপাদনে পঞ্চম, ধান উৎপাদনে চতুর্থ, আম উৎপাদনে সপ্তম, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে তৃতীয় এবং পাট রপ্তানিতে প্রথম। কৃষি জমির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেলেও খাদ্য উৎপাদনে আজ আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ।

তিনি বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ এখন সমাপ্তির পথে। মেট্রোরেলের কাজ চলছে, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বহুলেন টানেল নির্মাণের প্রথম টানেল সমাপ্ত হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পর এবার ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানের এক্সপ্রেস হাইওয়ের যুগে পা রাখল বাংলাদেশ।

প্রেসিডেন্ট বলেন, এ সরকারের অন্যতম কৃতিত্ব হচ্ছে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সম্পন্ন করা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিতমানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এখনো চলমান। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ বিচার অন্যতম মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। জলে-স্থলে-আকাশে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বাংলাকে সোনার বাংলা হিসাবে গড়তে চেয়েছিলেন। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই আরাধ্য কাজ সম্পন্ন করেছেন, বাংলাদেশের স্থল ও সমুদ্রসীমা স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করেছেন। ৫৭তম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে যা সফলভাবে কাজ করছে।




এই বিভাগের আরো সংবাদ