1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. mahir1309@gmail.com : star mail24 : star mail24
  3. sayeed.fx@gmail.com : sayeed : Md Sayeed
  4. newsstarmail@gmail.com : Star Mail : Star Mail
চীনের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হবে বাংলাদেশে | Starmail24




চীনের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হবে বাংলাদেশে

স্টার মেইল, ঢাকা
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০

করোনাভাইরাস নির্মূলে চীনের তৈরি একটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু হবে বাংলাদেশে। ট্রায়ালের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনুমতি দিলেই শুরু হবে এই ট্রায়াল। প্রায় একই সময়ে চীনও তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু করবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ ও করোনা মোকাবিলায় গঠিত ‘জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি‘র সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের আয়োজনে ভার্চুয়াল কনফারেন্সে ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘চীনে আবিষ্কৃত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল বাংলাদেশে হতে পারে। এই ট্রায়েলের সূত্র ধরে বাংলাদেশেও এর উৎপাদন শুরু হতে পারে। এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য করোনা মোকাবিলায় আরেক ধাপ সাফল্য বয়ে আনবে।’

করোনা পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগে দেশে আক্রান্ত একজন থেকে আরও দু’জনের বেশি হারে এই ভাইরাস ছড়াতে পারত। কিন্তু এখন সেই রিপ্রডাকশন রেট বা আর-রেট নেমে এসেছে ১.০৫-এ। এটা খুবই ভালো লক্ষণ। এখন নিচে নামাতে পারলে দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে যাবে। তাছাড়া এখনও প্রতিদিন সংক্রমণের যে সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে তা অনেকটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।’

এ বিষয়ে দেশে করোনাভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এবং এ থেকে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গঠিত ‘জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি‘র সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম জানান, ‘ভ্যাকসিনটির ট্রায়াল শুরু করবে দেশের স্বনামধন্য একটি মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতাল জাতীয় প্রতিষ্ঠান, যাদের ট্রায়াল চালানোর মতো সক্ষমতা আছে। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে ট্রায়ালের জন্য স্বেচ্ছাসেবক (যাদের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে) খোঁজা শুরু করেছে। এ ছাড়া এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ট্রায়াল করার জন্য যেসব প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার, তাও সম্পন্ন করার কাজ চলেছে।’

তবে সম্ভাব্য ওই ভ্যাকসিনটির নাম জানাননি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। এমনকি কোন প্রতিষ্ঠান এর ট্রায়াল শুরু করবে তাও জানাননি তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, যে প্রতিষ্ঠানটি ট্রায়াল কার্যক্রম শুরু করবে, তাদের এরই মধ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করার কথা। অধিদপ্তরটি অনুমতি দিলে তারপর ট্রায়াল শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি। ট্রায়ালের জন্য বেশ আগে থেকেই প্রস্তুতি চালাচ্ছে ওই প্রতিষ্ঠান। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে, কবে থেকে ট্রায়াল শুরু হয়। চীনের অনেক সেন্টারেই ভ্যাকসিনটির ট্রায়াল হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়ালে চীন সফল হয়েছে। এ ছাড়া চীন করোনাকালের শুরু থেকেই ভ্যাকসিনটি নিয়ে কাজ করছে।’

কতজন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হবে জানতে চাইলে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কতজনের ওপর ট্রায়াল চালানো হবে, তা এখনো আমি জানি না। তবে যত জনের ওপর ট্রায়াল চালানো হবে, তার দ্বিগুণ পরিমাণ ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে চীন। যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিসহ কয়েকটি দেশে ভ্যাকসিনটির ট্রায়াল চলছে। ঔষধ প্রশাসনের অনুমতি পেলে আমরাও দ্রুত ট্রায়াল শুরু করবো।’

জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির এই সদস্য আরো বলেন, ‘দেশে যারা এখনো করোনায় আক্রান্ত হননি, এমন কিছু স্বেচ্ছাসেবীর শরীরেই মূলত ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হবে। ট্রায়ালের মূল উদ্দেশ্য হল, ভ্যাকসিনটি বাংলাদেশের মানুষের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করছে কি না, তা দেখা। ভ্যাকসিনটি মানুষের শরীরে যদি অন্তত ৮০ থেকে ৯০ ভাগ অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্ষম হয়, তাহলে ভেবে নিতে হবে, এটি কার্যকর। এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিনটি ভালোই হবে বলে মনে হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো তিন হাজার ৮৬৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে করোনায় মারা গেছে আরো ৪০ জন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত নিয়মিত বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৬৬১ জনের মৃত্যু হলো। এ ছাড়া দেশে নতুন করে আরো তিন হাজার ৮৬৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট এক লাখ ৩০ হাজার ৪৭৪ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।




এই বিভাগের আরো সংবাদ