1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. mahir1309@gmail.com : star mail24 : star mail24
  3. sayeed.fx@gmail.com : sayeed : Md Sayeed
  4. newsstarmail@gmail.com : Star Mail : Star Mail
কোভিড১৯: অসচেতন ব্যক্তি ও পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা | Starmail24
শিরোনাম :
সাহেদ যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, ছাড় দেয়ার প্রশ্নই আসে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর সাথে রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাত, খুলতে পারে প্রবাসীদের ভাগ্য করোনায় আক্রান্ত নারী চিকিৎসকের আক্ষেপ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান করোনায় আক্রান্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসহ পাঁচ মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিরাট সুখবর আতাইকুলায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ১৩লাখ টাকা ছিনতাই মামলা উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে শিল্পী জুলি শারমিলীর জন্মদিন আজ দুদফায় প্লাজমা থেরাপি দিয়েও বাঁচানো গেল না শিক্ষক নয়নকে করোনায় প্রাথমিকের ৮ শিক্ষক-কর্মকর্তার মৃত্যু




কোভিড১৯: অসচেতন ব্যক্তি ও পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা

এবাদুল্লাহ খান,শিক্ষার্থী,ইউনিভার্সিটি অফ মালায়া
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২০

কোভিড-১৯ যা করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে মরণঘাতী হিসেবে সকলের কাছে এক নামে পরিচিত। বিশ্বের নাম করা দেশগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কাছে রোল মডেল হিসেবে পরিচিত অথচ তারাই আজ চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে। আর এদিক দিয়ে প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে। দেখা দিয়েছে ডাক্তারদের মধ্যে নানারকম অসন্তোষ।

সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের শিরোনামে প্রাধান্য বিস্তার করেছে কোভিড ১৯। ২০১৯ (ডিসেম্বর) চাইনার উহান প্রদেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রথম সনাক্ত করা হয়। তারপর ধীরে ধীরে এটি পুরো বিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করছে। তাই এটাকে বিশ্ব মহামারী হিসেবে অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে ভাইরাসটির কোন ভ্যাকসিন বা নিরাময়ক আবিষ্কার না হওয়ায় এটা বিশ্বে জন্য একটা আতঙ্কের নাম। ইরান, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশ এখন করোনার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি রোধে হিমশিম খাচ্ছে। উন্নত দেশের রঙ্গিন জাকজমকপূর্ণ শহরগুলো আজ ফাঁকা। চারিদিকে হাহাকার, এই কয়েক মাসের ব্যবধানে শহরগুলো এখন লাশের শহরে পরিণত হয়েছে। পুরো বিশ্ব আজ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন। সারা পৃথিবীর মানুষ আজ একটা স্কোর বোর্ডে দিকে তাকিয়ে আছে এবং আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা গণনা করছে। গতকাল মঙলবার পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বের মৃত্যুর সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৫৭,৪০০ জন। আমেরিকা মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৪২,৭৩২ জন, মারা গেছে ৩৯,৬৬০ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৮৬৫৬ জন। ইতালি মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১,৭৮,৯৭২ জন, মারা গেছেন ২৩,৬৬০ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৭০৫৫ জন। ফ্রান্স মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১,৫২,৫৭৮ জন। মারা গেছেন ১৯৭১৮ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬৫৭০ জন।

এইবার একটু দেখি আমাদের বাংলাদেশের দিখে-
৭ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম ৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। ৭ মার্চের পর থেকে শেষ পর্যন্ত নতুন আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এপ্রিলের প্রথম দু’সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ১,১৫৫ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। যেটা দক্ষিণ এশিয়ার দুই সপ্তার সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসাবে গণ্য হয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশে দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (IEDCR) এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৫৩ জেলায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২,৪৫৬ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার নাই বললেই চলে।

এদিকে, এশিয়ার বেশ কিছু দেশের তুলনায় আমাদের বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা অনেক এগিয়ে থাকলেও নাই কোন সঠিক নীতিনির্ধারক (decision maker)।

অপরদিকে, চিকিৎসার পর্যাপ্ত সরঞ্জাম, সুব্যবস্থা ও টেকনোলজি না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চিকিৎসকরা। যার ফলে অনেক চিকিৎসক চিকিৎসা সেবা দিতে দ্বিমত পোষণ করছেন । সুতরাং করোনা মোকাবেলায় আমরা ঐ দেশগুলো থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। আর এ জন্যই বাংলাদেশের মৃত্যুর হার দিন দিন বেড়েই চলছে।

বর্তমানে কোভিট-১৯ এর কঠিন পরিস্থিতি ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও সরকারের পাশে নেই বিরোধী দল, সুসময়ের সমাজসেবক, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, সেলিব্রিটি এবং পরামর্শ দাতারা। তবে সরকারি, বেসরকারি উদ্যোগে সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাহায্য সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এদিকে, মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য রাত-দিন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা । কিন্তু জাতির এই কঠিন দুঃসময়ে থেমে নেই বাংলাদেশের দুর্নীতি, নিপীড়ন। খাদ্যের অভাবে হাহাকার দেখা দিচ্ছে সাধারণ জনগণের মধ্যে। অভাবে মধ্যে দিন কাটাচ্ছে দৈনিক আয়ের দিন মজুর মানুষগুলো। দেশের অর্থনীতি ও জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করে সরকার বরাদ্দ দিলেও সঠিক পরিমাণ বরাদ্দ জনগণের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতির কারণে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ জনগণ।

পক্ষান্তরে, এক শ্রেনির ধর্ম ব্যবসায়ি ধর্মকে পুঁজি করে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা বিশ্বাস করে সংক্রামক বলতে কিছুই নাই। এ জন্য কোনো সর্তকতা অবলম্বনের প্রয়োজন হয় না বলে তারা মনে করেন। সবকিছু মিলে একটা অসচেতনতা ও অসাবধানতার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে সরকার। কিন্তু জনগণ সচেতন না হলে সরকারের পক্ষে একা পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কখনও সম্ভব কিনা এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।

তাই বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব পালন করা এবং সকল রাজনৈতিক, ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে, সরকারের দেওয়া নিয়ম মেনে বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবেলায় সরকারকে সাহায্য করা। না হলে উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের জন্যও সামনে ভয়াবহ কঠিন পরিণতি অপেক্ষা করছে। এ জন্য আমরা সচেতন হই এবং দেশ বাছাই।

 




এই বিভাগের আরো সংবাদ