23/10/2019 , ঢাকা

কোথায় লেখা আছে, মানুষ খুন করলে বেহেশতে যাবে?


প্রকাশিত: 23/10/2019 19:44:48| আপডেট:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সমস্যাগুলো আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারি। তাহলে এই যে আত্মঘাতী সংঘাত আর রক্ত এটা হয় না। দেখা যাচ্ছে, মুসলমানরা মুসলমানদেরই হত্যা করছে।

রোববার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ডে ১২ দিনের সরকারি সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেষ বিচার করবেন আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন। কে ভালো মুসলমান, আর কে ভালো মুসলমান নয়। কে সঠিক, কে সঠিক না বা কে ভালো কাজ করছে, কে করছে না। এটার বিচার করার দায়িত্ব কিন্তু আল্লাহ আমাদের দেন নাই। আপনারা পবিত্র কোরআনের সবগুলো সুরা পড়েন, দেখবেন সব জায়গায় আল্লাহ বলেছেন, শেষ বিচার তিনি করবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, শেষ বিচার করার ক্ষমতা তো আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিনের। আর নিরীহ মানুষ মারলেই একবারে বেহেশতে চলে যাবে, এটা তো কোনো দিন হয় না। এটা কোথাও লেখা নেই। মানুষকে মারার ক্ষমতা ওই লোককে কে দিয়েছে? কেউ দেয়নি। আল্লাহ তো সেই বিচারের দায়িত্ব কাউকে দেয়নি। শেষ বিচারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আল্লাহর হাতে। আল্লাহর ওপর ভরসা কেন রাখতে পারছেন না? আমরা যেটা শুনি নানা ধরনের কথা। মানুষ হাঁটতে হাঁটতে বলে এই যে দুই কদম, বেহেশতের কাছে পৌঁছালাম। বেহেশতে কে পৌঁছাইছে? যারা মানুষ খুন করেছে একজনও কি পৌঁছাতে পেরেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে তো এত ম্যাসেজ পাঠায়, এত নিউজ দেয়, এত আইটেম দেয়। কেউ কি বেহেশত থেকে একটাও আইটেম পাঠিয়েছে? বা কোনো ম্যাসেজ পাঠিয়েছে মানুষ খুন করে বেহেশতে বসে আরামে আঙ্গুর ফল খাচ্ছি? পেয়েছে কেউ? এক সময় ধারণা করা হতো আমাদের দেশের শুধু কওমি মাদ্রাসার ছেলেরাই সন্ত্রাস করে। এখন আমরা কি দেখি ইংরেজি মিডিয়ামে পড়া, উচ্চবিত্ত, জীবনে চাওয়া পাওয়ার কিছু বাকি নেই, বাপ-মা সব দিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ তাদের মনে হলো বেহেশতে যেতে হবে। আরে বেহেশতে যদি যেতে হয় আল্লাহ-রসুলের নাম নেও, নামাজ পড়ো, মানুষকে সাহায্য করো। তোমার ধনসম্পদ দরিদ্রদের বণ্টন করো। আল্লাহ তোমাকে এমনিতেই বেহেশতে টেনে নিবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মুসলমানরা আত্মঘাতী সংঘাত করে যাচ্ছি। একে অপরকে আমরা খুন করছি। আর রণক্ষেত্র হচ্ছে সমস্ত মুসলিম দেশ। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যেই খুনাখুনি হচ্ছে। লাভবান কে হচ্ছে? অস্ত্র যারা তৈরি করছে তারা, অস্ত্র যারা সরবরাহ করছে তারা, অস্ত্র যারা দিচ্ছে তারা। আপনারা আমার ওআইসি বক্তৃতা পড়বেন। সেখানেও পাবেন। যারা অস্ত্র তৈরি করছে, অস্ত্র বিক্রি করছে, অস্ত্র সরবরাহ করছে, শুধুই তারাই লাভবান হচ্ছে। আর রণক্ষেত্র হচ্ছে প্রত্যেকটা মুসলিম দেশ। মুসলমান মুসলমানের রক্ত নিচ্ছে। এটা ওআইসিকে বন্ধ করতে হবে। এ দাবিটা আমি সব সময় রাখি। আমি রেখে যাচ্ছিও, আমি রেখে যাব। আমি জানি এতে অনেক সমস্যা হবে, তারপরেও। যেটা বাস্তব যেটা সত্য সেটাই। একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ছাড়া কারো কাছে আমি মাথানত করি না, করব না।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

বেতন বৈষম্য নিরসনে সরকারকে সময় বেঁধে দিলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা

বেতন বাড়িয়ে বৈষম্য নিরসন দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দাবি পূরণের জন্য সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।

কোন স্তরের কত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলো

এমপিওভুক্তির নতুন নীতিমালা বাতিল করে পুরোনো নিয়মে স্বীকৃতি পাওয়া সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির দাবিতে মঙ্গলবারও আন্দোলনে ছিলেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী যা যা বললেন

বুধবার (২৩ অক্টোবর) গণভবনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন...

Top