9/12/2019 , ঢাকা

ওসির কক্ষে নুসরাতের কান্নার ভিডিও


প্রকাশিত: 9/12/2019 13:23:47| আপডেট:

যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে গিয়ে ফেনীর সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে আরেক দফা হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে করতেই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেওয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।

ভিডিও করার সময় নুসরাত অঝোরে কাঁদছিলেন এবং তার মুখ দু’হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। তাতেও ছিল ওসির আপত্তি। বারবারই ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে।’

দায়িত্বে অবহেলার দায়ে গত ৯ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কে এই ভিডিও করেছিল প্রশ্নে সোনাগাজী থানার ওসি (তদন্ত) বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আজকে অনেকে বিষয়টি জানতে চেয়ে ফোন করায় আমি জানতে পেরেছি।’

ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে নুসরাতকে জেরা করা হচ্ছে—‘কিসে পড়া? ক্লাস ছিল?’ ঘটনা জানাতে গিয়ে নুসরাত বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। সে সময় তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়—‘কারে কারে জানাইসো বিষয়টা?’ নুসরাত যখন জানায় তাকে অধ্যক্ষ ডেকে নিয়ে গিয়েছিল, তখন প্রশ্ন করা হয়—‘ডেকেছিল, নাকি তুমি ওখানে গেছিলা?’ পিয়নের মাধ্যমে ডেকেছিল বলে নুসরাত জানালে প্রশ্ন করা হয়—‘পিয়নের মাধ্যমে ডেকেছিল? পিয়নের নাম কী?’ নুসরাত সে সময় পিয়নের নাম বলেন—‘নূর আলম।’

পুরো ভিডিও’তে নুসরাত কাঁদছিলেন। একসময় ভিডিওধারণকারী তাকে ধমকের সুরে বলে—‘কাঁদলে আমি বুঝবো কী করে, তোমাকে বলতে হবে। এমন কিছু হয়নি যে তোমাকে কাঁদতে হবে।’

ভিডিও’র শেষে নুসরাতের কথা বলা শেষ হলে ধারণকারী বলেন—‘এইটুকুই?’ আরও কিছু অশালীন উক্তির পাশাপাশি তাকে উদ্দেশ করে ওই ব্যক্তি বলেন—‘এটা কিছু না, কেউ লিখবেও না তোমার কথা। আমি আইনগত ব্যবস্থা নেবো। কিছু হয়নি। রাখো। তুমি বসো।’

যৌন হয়রানির অভিযোগ করার ভিডিও ধারণের বিষয়ে ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তিনি বলেন, ‘ওসি কর্তৃক ভিডিও করা তো দূরে থাক, তাকে হেনস্তামূলক কোনও প্রশ্ন করার অধিকারও ওসির নেই। যদি অভিযোগকারীর বক্তব্য শুনে মনে হয়, মামলাটি নেওয়ার মতো তাহলে সে মামলাটি নেবে। আর ওসি মামলা না নিলে অভিযোগকারী কোর্টে গিয়ে মামলা (নালিশ) করবেন।’

তিনি বলেন, হয়রানির শিকার নুসরাতের ভিডিও ধারণ করার ঘটনাটি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ২৬ ধারা অনুসারে ফৌজদারি অপরাধ। এখন নুসরাতের পরিবার যদি মনে করে, তবে সংশ্লিষ্ট ওসি’র বিরুদ্ধে ওই ধারায় মামলাও করতে পারবেন।

পুলিশের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘যদি কোনও রূঢ় অশালীন উপায়ে সুনির্দিষ্ট আইনিপন্থা না মেনে এ ধরনের কোনও ভিডিও করা হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। এটি তার ব্যক্তিগত বিচ্যুতি।’

ভিডিও…

https://www.facebook.com/572177349838137/videos/524658814729496/


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

‘রাস্তা ছাড়েন ভাই, ডিআইজি স্যার বসে আছেন’

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছেন এক সাংবাদিক।

মালয়েশিয়ায় ড্রাইভিংয়ের অপরাধে ৫৬ বাংলাদেশিকে আটক

মালয়েশিয়ায় লাইসেন্স এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ড্রাইভিংয়ের অপরাধে ৫৬ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির ট্রাফিক পুলিশ। সোমবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের এই অভিযান চালায় ট্রাফিক পুলিশ কুয়ালালামপুর। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের পর থেকে ইমিগ্রেশন বাহিনীর পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশও অভিযান পরিচালনা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় রাজধানীতে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ ২৩৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আটকদের […]

আজ ঝিনাইদহ হানাদার মুক্ত দিবস

৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার ও এদেশে তাদের দোসরদের হটিয়ে ঝিনাইদহকে শত্রুমুক্ত করে

মন্তব্য লিখুন...

Top