1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. mahir1309@gmail.com : star mail24 : star mail24
  3. sayeed.fx@gmail.com : sayeed : Md Sayeed
  4. newsstarmail@gmail.com : Star Mail : Star Mail
একই সঙ্গে দুটি চাকরি করছেন শিক্ষক | Starmail24
শিরোনাম :
হাসপাতালে করোনায় যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের ইন্তেকাল আওয়ামী লীগ দলের ভিতরে বর্ণচোরা, লোভী-ষড়যন্ত্রকারীদের সুযোগ নেই: কাদের করোনাকালে অনলাইন মিটিংয়ে খরচ ৫৭ লাখ, রিপোর্ট চাইলেন মন্ত্রী সকল প্রচেষ্ঠা ব্যর্থ করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী বকুল জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা গ্রেপ্তার মরণঘাতী করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ২ লাখ ২৮ হাজার হাজার ১০২ সাহেদ যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, ছাড় দেয়ার প্রশ্নই আসে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর সাথে রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাত, খুলতে পারে প্রবাসীদের ভাগ্য করোনায় আক্রান্ত নারী চিকিৎসকের আক্ষেপ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান করোনায় আক্রান্ত




একই সঙ্গে দুটি চাকরি করছেন শিক্ষক

ষ্টার মেইল রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৯

স্টার মেইল, পটুয়াখালী: তিনি একই ব্যক্তি, তবে চাকুরি করছেন দুই প্রতিষ্ঠানে।তিনি একটি সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী, একই সাথে একটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। দুই প্রতিষ্ঠানেই কাগজপত্রে তিনি নিয়মিত। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সরকারি ক্লিনিকের বেতন-ভাতা নিয়মিত ভোগ করলেও তার নিয়মিত উপস্থিতি কলেজে। এর ফলে ক্লিনিকে আসা উপকারভোগীরা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে এভাবেই পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় দুই প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে চাকুরি করার অভিযোগ মো. নূরে আলম বিপ্লব তালুকদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরকারি চাকরি করেও রাজনীতিতে সক্রিয় তিনি। রাঙ্গাবালী উপজেলা যুবলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন।

মো. নূরে আলম বিপ্লব তালুকদার রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের গন্ডাদুলা কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ও রাঙ্গাবালী হালিমা খাতুন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে নিয়োজিত। নিয়মানুযায়ী কমিউনিটি ক্লিনিকে সপ্তাহে ৬ দিন তার উপস্থিত থাকার কথা। অভিযোগ রয়েছে, বিপ্লবের চাচা ক্ষমতাসীন দলের উপজেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘ ৭ বছর ধরে তিনি দুই প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে চাকুরি করে আসছেন। শুধু তাই নয়, সরকারি ক্লিনিকে অনুপস্থিত থেকে কলেজে তিনি নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদ্য এমপিওভুক্ত ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত রাঙ্গাবালী হালিমা খাতুন মহিলা কলেজে ২০১১ সালে সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে বিপ্লব যোগদান করেন। এর এক বছর পর অর্থাৎ ২০১২ সালে রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের গন্ডাদুলা সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ প্রভাইডার পদে নিয়োগ নেন বিপ্লব। পরবর্তীতে তার চাচা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির তালুকদার ওই কলেজের সভাপতি হওয়ায় কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ আবু সালেহকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর পদে বসেন বিপ্লব। দুইটি প্রতিষ্ঠানেই তিনি কাগজপত্রে নিয়মিত রয়েছেন। তাই ২০১২ সাল থেকে বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধাগুলোও তিনি দুই প্রতিষ্ঠানের ভোগ করে আসছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিপ্লব নিয়মত নীতি না মেনে দুই প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে চাকুরি করলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কারণ, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সখ্যতা রেখেই তিনি এ অনিয়ম করে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে গণ্ডাদুলা কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা গেছে, ক্লিনিকটি বন্ধ। সেবা নিতে আসা মানুষরা ফিরে যাচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, এখানে কেউ ঠিকমত সেবা দিচ্ছে না। বেশিরভাগ সময়ই ক্লিনিক বন্ধ থাকে। ওষুধ ও পরামর্শ কিছুই পাওয়া যায় না। তাই ধীরে ধীরে রোগী আসাও কমে যাচ্ছে। বিপ্লব নামের কেউ এখানে আসে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে কয়েকজন নারী বলেন, সেতো কলেজের শিক্ষক। সে এখানে আসবে কেন?

এদিকে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক রাঙ্গাবালী হালিমা খাতুন মহিলা কলেজের চাকুরিচ্যুত এক প্রভাষক জানান, উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই কলেজটিতে প্রতিবছর এক থেকে দেড় শতাধিক ছাত্রী ভর্তি হয়। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণসহ বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। সেই টাকা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিপ্লব ও তার চাচা যুবলীগ নেতা হুমায়ুনের যোগসাজশে আত্মসাত করেন তারা। বিপ্লবের চাচা কলেজের সভাপতি হওয়ায় অন্য কোনো শিক্ষক এ ব্যাপারে মুখ খুলতে সাহস পায় না।

রাঙ্গাবালী ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন বলেন, কয়েকজন নারী-পুরুষ এসে আমার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন যে, বিপ্লব নিয়মিত ক্লিনিকে যান না। ফলে ক্লিনিকে গিয়ে সেবা পাচ্ছেন না মানুষ এবং ওষুধও পাচ্ছেন না এমন অভিযোগ এসেছে। এ বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।

দুই প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে চাকুরি করার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. নূরে আলম বিপ্লবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে না পাওয়ায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাশফাকুর রহমান জানান, বিষয়টি আমরা শুনেছি। এক ব্যক্তি দুইটি প্রতিষ্ঠানে এভাবে একসঙ্গে কিভাবে চাকুরি করে, তা তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




এই বিভাগের আরো সংবাদ