1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. mahir1309@gmail.com : star mail24 : star mail24
  3. sayeed.fx@gmail.com : sayeed : Md Sayeed
  4. newsstarmail@gmail.com : Star Mail : Star Mail
শিরোনাম :
পাপিয়াকান্ড প্রকাশে লীগের অর্ধশতাধিক নারী নেত্রীরা নজরদারিতে কুমারখালী থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকে কুপিয়ে জখম অনলাইনে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তির আবেদন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গিয়ার পরিবর্তন করা হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী ‘কোনো রকমে নিজেদের জীবনটা বাঁচিয়ে,চোখে অশ্রু নিয়ে দিল্লি ছাড়ছে’ ১লা মার্চ মিজানুর রহমান আজহারীর তাফসির মাহফিল ‘এটাতো চিন্তাও করা যায় না মুজিববর্ষে ভারতের প্রতিনিধিত্বকে আমরা বাদ দেবো’ কারাবন্দি খালেদা জিয়ার এবারও জামিন হলো না রিমান্ডে মন্ত্রী,এমপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নাম পাপিয়ার মুখে যশোরে ছাত্রবাসে মিললো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গুলি-বোমা




‘আমার মা মানুষের মতো সম্মান পেল’

স্টার মেইল, রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার বাসিন্দার বসবাস। এটি দেশের সবচেয়ে বড় যৌনপল্লি হিসেবে পরিচিত। এখানকার কারো মৃত্যুর পর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাদের জানাজা বা দাফন ছাড়াই মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হতো অথবা মাটিচাপা দেয়া হতো। ওসির উদ্যোগে এই প্রথম দৌলতদিয়ায় কোনো নারীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দীর্ঘদিনের প্রাচীন সেই প্রথা ভেঙে চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারি (রোববার) রাতে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর প্রবীণ যৌনকর্মী হামিদা বেগমের (৬৫) নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। এর পেছনে বিশাল অবদান রাখেন গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান।

ওসি আশিকুর রহমান বলেন, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সবারই ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করা উচিত। আমরা যতই পাপী হই না কেন, বিচার করার মালিক একজন (আল্লাহ)। সে দৃষ্টিকোণ থেকে এবং মুসলমান হিসেবে নিজ দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে ওই যৌনকর্মীর নামাজে জানাজার ব্যবস্থা করি। আগামীতে এ রেওয়াজ অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, আগে কোনো যৌনকর্মীর মৃত্যু হলে অমানবিকভাবে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হতো বা মাটিচাপা দেয়া হতো। এটা তো কোনো ধর্মে নেই। তবে কেন ওটা করা হতো? এছাড়া যৌনকর্মীদের মৃত্যু হলে কোনো মৌলভী জানাজা পড়াতে রাজি হতেন না। কিন্তু ধর্মে তো এটাও নেই যে, পাপী ব্যক্তিদের জানাজা পড়ানো যাবে না। এ বিষয়ে মৌলভীদের কাছে সুনির্দিষ্ট মাসালা জানতে চাইলে তিনি অনেকটা বাধ্য হয়েই জানাজা পড়াতে রাজি হন। ওই দিন রাতেই জানাজা নামাজ পড়ানো হয়। কাজটি সফলভাবে করতে পেরে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করছি।

ওসি বলেন, যৌনকর্মী শব্দটি ভদ্র ও সভ্য সমাজে একটি ঘৃণিত পেশা হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু এদের সৃষ্টি করেছেন সমাজের মুখোশধারী ও ভদ্রবেশীরা। তবে কেন তারা ধর্মীয় সম্মান পাবে না? তারা তো এ দেশেরই নাগরিক। দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই এমন উদ্যোগ নিয়েছি।

পৃথিবীর আদিমতম পেশা পতিতাবৃত্তি। অসম্মানজনক এ পেশা আজও পৃথিবীতে টিকে আছে। নানারকম ছলচাতুরি করে কিংবা ফাঁদে ফেলে পতিতাবৃত্তিতে নিয়ে আসা হয় অবলা নারীদের। তবে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে সম্প্রতি বিভিন্ন অপরাধ ও জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার বিরুদ্ধে পুলিশ কড়া নজরদারি রাখছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেখানে মাদক, জোরপূর্বক দেহব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পল্লীর বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত বসেন গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ।

এরই অংশ হিসেবে গত ২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে যৌনকর্মীদের ‘অবহেলিত নারী ঐক্য’ নামের সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে হামিদা বেগম নামের এক প্রবীণ যৌনকর্মীর মৃত্যুর খবর আসে। সে সময় পল্লীর বাসিন্দারা হামিদা বেগমের জানাজাসহ দাফনের দাবি তোলেন। এ সময় গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান তাদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে ওই নারীর জানাজা, দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করেন।

পরে রাত ৯টার দিকে ওই নারীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় থানার ওসি ছাড়াও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডল, স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল ফকীরসহ অনেকে জানাজায় অংশ নেন। জানাজা নামাজে ইমামতি করেন দৌলতদিয়া রেল মসজিদের ইমাম মৌলভী গোলাম মোস্তফা।

দেশের বৃহত্তম এ যৌনপল্লীতে প্রায় এক হাজার ২০০ যৌনকর্মীসহ অন্তত দুই থেকে আড়াই হাজার বাসিন্দার বসবাস। এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে প্রথমদিকে নদীতে মরদেহ ভাসিয়ে দেয়া হতো। কয়েক বছর আগে পল্লীর পাশে একটি কবরস্থান করা হয়। সেখানে মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন ছাড়াই দেয়া হতো মাটিচাপা। চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারি রাতে দৌলতদিয়া পল্লীর ওই নারীর নামাজে জানাজা সম্পন্নের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো কোনো যৌনকর্মীর দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এ বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন সম্প্রতি গোয়ালন্দ ঘাট থানায় যোগ দেয়া ওসি আশিকুর রহমান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল ফকীর জানান, অতীতে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাসিন্দা কেউ মারা গেলে জানাজা হতো না। আসল কথা হলো, কোনো মৌলভী জানাজা নামাজ পড়াতে রাজিই হতেন না। তাই বাধ্য হয়ে মৃত ব্যক্তিকে মাটিচাপা দেয়া হতো।

‘গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সাহেব উদ্যোগ নেয়ায় প্রথমবারের মতো কোনো যৌনকর্মীর জানাজা এবং ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফন করা হলো।’

হামিদা বেগমের মেয়ে লক্ষ্মী বলেন, ‘আমি স্বপ্নেও ভাবিনি তার কপালে (তার মা) এমন সম্মানজনক বিদায় জুটবে। শেষপর্যন্ত আমার মা মানুষের মতো সম্মান পেল।’

যৌনকর্মীদের একটি দলের প্রধান ঝুমুর বেগম বলেন, ‘সকালে মাটিতে পুঁতে ফেলার জন্য আমরা যদি কোনো মৃতদেহ ঘর থেকে বের করতাম স্থানীয়রা বাঁশ লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের তাড়া করত।’

‘মনে হতো কোনো মানুষ নয়, একটি কুকুর মারা গিয়েছে’, বলছিলেন নিলি বেগম নামে এক বয়স্ক যৌনকর্মী, যার মেয়েও এখন এই পেশায় যুক্ত।

প্রসঙ্গত, ঢাকার ৭০ মাইল পশ্চিমে ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠে যৌনপল্লিটি। দেশের অনুমোদিত ১২টি যৌনপল্লির একটি। ১৯৮৮ সালে স্থানীয়রা আগুন লাগিয়ে দিলে নতুনভাবে গড়ে উঠে এটি।

বিশ্বের বৃহত্তম যৌনপল্লিগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয় দৌলতদিয়াকে। এখানে দিনে অন্তত ৫০০০ হাজার মানুষের যৌনতায় লিপ্ত হতে ভিড় করে। যাদের জন্য প্রয়োজন মেটায় ১২০০ এরও বেশি নারী ও অল্পবয়সী মেয়ে।

যৌন পেশার জন্য অনুমোদন পেতে ১৮ বছর বয়সী নারীদের স্বীকৃতি পাওয়া বাধ্যতামূলক হলেও পুলিশকে ঘুষ দেয়াসহ নানা অসদুপায় অবলম্বন করে অল্প বয়সী মেয়েরাও এই পেশার সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ে। এর পেছনে নারী ও শিশু পাচারকারীদের দৌরাত্ম্যের কথা প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়।




এই বিভাগের আরো সংবাদ