20/09/2019 , ঢাকা

সংবাদ সম্মেলনে যে দাবি জানালো ঐক্যফ্রন্ট


প্রকাশিত: 20/09/2019 17:39:15| আপডেট:

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে জরুরি এক বৈঠক শেষে এ দাবির কথা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেছেন, এটা কোনো নির্বাচন হচ্ছে না রক্তের হলি খেলা হচ্ছে। সব জায়গায় আমাদের প্রার্থীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। নারীরাও বাদ যাচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনের আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে দেখিয়ে বলেন এটি হলো ২০১৮ সালের নির্বাচন। রক্তাক্ত সাবেক মন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

ফখরুল আরো বলেন, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরীও আক্রান্ত হয়েছেন। কাউকে বাদ দিচ্ছে না। দেখে মনে হচ্ছে এটা কোনো নির্বাচন নয়।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ, অকার্যকর এটা আজ জাতির সামনে প্রমাণ হয়েছে। আমরা এ মুহূর্তে সিইসির পদত্যাগ চাই। এখনই চাই তিনি পদত্যাগ করুন।

এরপর ঐক্যফ্রন্টের বিবৃতি পড়েন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে তিনি এটি পড়ে শোনান।

বিবৃতিতে বলা হয়, সারা দেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের ওপর হামলা মামলা, নির্যাতনের বিষয়ে অবহিত করতে নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলাম ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরোর নেতৃত্বে সিনিয়র নেতারা। কিন্তু আমাদের অভিযোগ শুনে সিইসি নূরুল হুদা সরকার দলীয় নেতার মত আচরণ করেছেন।

এতে আরো বলা হয়, সিইসির ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে যে আচরণ করেছে তা ছিল অত্যন্ত অশোভন। ঐক্যফ্রন্ট নেতারা তাৎক্ষণিক ক্ষোভ জানিয়ে বৈঠক বর্জন করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করছি। রাষ্ট্রপতির কাছে আহ্বান করছি যাতে একজন নিরপেক্ষ সরকারকে সিইসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কারণ এমন মেরুদণ্ডহীন কমিশনের কাছ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না।

নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা জনগণকে আহ্বান জানাব জনগণের ঐক্য গঠে তুলে জনগণের দাবি আদায় করার।

এরপর মঙ্গলবার প্রচারণার সময় হামলার শিকার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে ইসি ৭১ সালের আল বদর, আল শামস বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ক্ষমতাসীনদের বিজয়ী করতে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে জনগণ যেভাবে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করেছে ঠিক একইভাবে ৩০ তারিখের নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের পরাজিত করবে। আমরা বলতে চাই রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দিব।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। বিরোধীপক্ষের অভিযোগ প্রার্থী-কর্মী-সমর্থকদের মাঠেই নামতে দিচ্ছে না পুলিশ ও ক্ষমতাসীনরা। মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের উত্ত্যপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। পরে সিইসির বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ তুলে বৈঠক বর্জন করেছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

দুপুরে বৈঠক বর্জনের পর নির্বাচন কমিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সিইসি অশোভন আচরণ করেছেন। সরকার ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে জাতীয় নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। কারণ তারা নির্বাচনের ন্যূনতম পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারছে না। কিন্তু আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দিব না।’

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বৈঠক শুরু হয়। ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বৈঠকে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টুসহ আরো কয়েকজন।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে বৈঠকে ছিলেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ও রফিকুল ইসলাম, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

এ সময় ড. কামাল পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের ওপর নির্যাতন ও প্রচারণায় বাধার অভিযোগ জানান। এরপর অশোভন আচরণের অভিযোগ এনে ক্ষুব্ধ ড. কামাল হোসেনসহ নেতারা বৈঠক ত্যাগ করেন।

এরপর নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বৈঠকের বর্ণনা দেন। তবে ক্ষুব্ধ ড. কামাল হোসেন এ সম্মেলনে ছিলেন না।

সংবাদ সম্মেলনে ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন তাঁর বক্তব্যে সিইসির উদ্দেশে বলেন, আপনি বর্তমানে প্রধান বিচারপতির চেয়েও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারেন। আপনি ইচ্ছা করলে… পুলিশ বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আপনার এই … পুলিশ বাহিনী আমাদের মিটিং-মিছিল কিছুই করতে দিচ্ছে না। এমনকি বেলা ২টার পর মাইক ব্যবহারের জন্য আমাদের নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও তার জোটেরা তার নিয়মকানুন না মেনে পুলিশের সহায়তায় প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের গুণ্ডা বাহিনী আমাদের ওপর হামলা করছে। আমাদের প্রার্থীদের জীবনের দাম না থাকলেও কর্মীদের জীবনের দাম রয়েছে। তাদের তো সেভ করতে হবে।

এ সময় সিইসি ক্ষুব্ধ হয়ে ড. কামাল হোসেনকে বলে ওঠেন, আপনি এমন কী হয়েছেন, যে পুলিশকে… বলছেন। নিজেকে কী মনে করেন?’

ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘তখন মঈন খান সিইসিকে বলেন, নির্বাচনের কোনো পরিবেশ যদি সৃষ্টি করতে না পারেন, তাহলে বলে দেন, আমরা আজকেই প্রেসক্লাবে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বর্জনের বিষয়ে ঘোষণা দেব।’

এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সিইসি কোনো ভদ্রতাসূচিত আচরণ করেননি। আমরা পুলিশের দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার কথা জানালে, তিনি কোনো সহানুভূতি না জানিয়ে হঠাৎ করেই পুলিশের পক্ষেই অবস্থান নেন। তাই আমরা বৈঠক থেকে চলে আসছি।’

নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, ‘প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এগুলো সব আলোচনার পরে আমরা আশা করেছিলাম যে, সিইসির বক্তব্যের শুরুতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাদের বাড়িঘর পুড়ে গেছে উনি তাদের প্রতি একটা সহানুভূতি দেখিয়ে তাঁর বক্তব্য শুরু করবেন। কিন্তু আমরা দেখলাম, উনি এর ধারেকাছে না গিয়ে বরং আমরা যাদের পক্ষে অভিযোগ করছি, উনি তাদের পক্ষ অবলম্বন করে তাঁর বক্তব্য শুরু করেছেন। তাই আমরা ওয়াক আউট করে বের হয়ে চলে এসেছি।’

সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সেনাবাহিনীকে চেয়েছি নিশ্চয়। কিন্তু সেনাবাহিনী এখন নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। তারা তাদের কোথাও বের হতে দিচ্ছে না। এখন সেনাবাহিনীকে ক্যাম্পে রেখে পুলিশ দিয়ে যে অত্যাচারটা বাড়ানো হয়েছে, এটা আসলে সেনাবাহিনীকে হেয় করার একটা চক্রান্ত কি না, সেটাও বিবেচনার বিষয়।’

সংবাদ সম্মেলনে ড. মঈন খান বলেন, ‘১১ ডিসেম্বর আমার শান্তিপ্রিয় গণসংযোগ কার্যক্রমের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর হয়েছে এবং ১৭ তারিখে লিখিতভাবে বলেছি। তারপর গতকাল কী ঘটনা হয়েছে সেগুলো আপনারা সব জানেন।

তো আজকে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে স্পষ্ট ভাষায় জিজ্ঞাসা করেছি, আপনি আমাকে বলে দেন আমার নিজের জীবন গেলেও আমার যে নেতাকর্মীরা আমাকে মানবঢাল করে এই কয়েকদিনের ভেতরে তিনবার আমার জীবন বাঁচিয়েছেন, আমি কী তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেব? আপনি আমাদের বলে দেন, যদি বলেন নির্বাচন করতে দিবেন, আমরা করব। আপনি না করতে দিলে আমি আজ বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে বলে দেব আমার পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব না।’


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

ঐক্যফ্রন্টের তোপের মুখে বিএনপি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে দলীয় একক সিদ্ধান্তে দলের পাঁচ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য শপথ নেওয়ায় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন বিএনপির নেতারা। সোমবার রাজধানীর উত্তরায় জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের বাসায় জাতীয়

ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবিতেও টিকে গেলেন যারা

একাদশ সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে আওয়ামী লীগের জয়জয়কারের বিপরীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা জয়ের দেখা পেয়েছেন কেবল সাতটি আসনে। ‘ভোট বিপ্লবের’ ডাক দিয়ে

সিইসির আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে সভা বয়কট করলো ঐক্যফ্রন্ট

সিইসির আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বয়কট করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে

মন্তব্য লিখুন...

Top