16/09/2019 , ঢাকা

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের অফিস কক্ষে খাট, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ


প্রকাশিত: 16/09/2019 02:48:30| আপডেট:

স্টার মেইল, পাবনা: জামালপুরের ডিসি আহমেদ কবীরের অফিস কক্ষে খাস কামরা কাণ্ডের পর এবার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সভাপতির কক্ষে গোপন খাস কামরার সন্ধান পেয়ে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার দুপুরে ওই বিভাগের বর্তমান ও সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই কামরার খাটসহ আসবাবপত্র বের করে দেয়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বর্তমান সভাপতি আমিরুল ইসলাম ও সাবেক সভাপতি ড. কামরুজ্জামান বিভিন্ন সময়ে বিভাগের নারী শিক্ষার্থীদের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করেন। বিষয়টি ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও সামাজিক সম্মান ও শিক্ষা জীবনের কথা ভেবে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করতে সাহস পায়নি।

সভাপতির কক্ষে খাট পেতে গোপন খাস কামরা তৈরির বিষয়টি সম্প্রতি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার দুপুরে তারা ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সভাপতির কক্ষে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে ওই গোপন খাস কামরায় সুসজ্জিত বিছানার সন্ধান মেলে। এ সময় তাদের তোপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কামরা থেকে তড়িঘড়ি করে খাটসহ আসবাবপত্র বের করে দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বর্তমান ও সাবেক সভাপতি নিয়মিত ও সান্ধ্য কোর্সের নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক তাদের ওই কক্ষে ডেকে নিতেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে কানা ঘুষা হলেও কোন তোয়াক্কা না করেই তাদের অপকর্ম চালিয়ে যান তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রধানের কক্ষে খাট থাকা অনৈতিক। এটা শিক্ষার্থীদের জন্য মানহানিকর।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একজন শিক্ষকের কক্ষের সঙ্গে এমন পৃথক কক্ষ কোনো শালীনতার মধ্যে পড়ে না। স্পর্শকাতর এই বিষয়ে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে বিচার হওয়া প্রয়োজন।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সভাপতি ড. আমিরুল ইসলাম নিজের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বিষয়ে বলেন, নৈশ ও নিয়মিত কোর্সের ক্লাশ নেওয়ার জন্যে ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের দীর্ঘসময় অবস্থান করতে হয়। পূর্বের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে বিশ্রাম কক্ষ তৈরি করেন। যা শুধুমাত্র বিশ্রামের জন্যেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে বিশ্রামকক্ষ তৈরী করা হয় নি।

অভিযুক্ত আরেক শিক্ষক ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সাবেক সভাপতি ড. কামরুজ্জামান বলেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ বিভিন্ন গোপন কাজের জন্যে কক্ষটি তৈরী করা হয়েছিল। কখনোই কোন নারী শিক্ষার্থী যৌন হেনস্তার অভিযোগ করেনি। অভ্যন্তরীণ শিক্ষক রাজনীতির কারণে ছাত্রদের দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

তবে অন্যান্য বিভাগে এ ধরনের খাস কামরা না থাকলেও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে কি প্রয়োজনীয়তা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে পাবিপ্রবির প্রক্টর ড. প্রীতম কুমার দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নীতি মালায় বিভাগীয় সভাপতির কক্ষে এ ধরনের খাট বিছানোর সুযোগ আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কথিত ওই খাস কামরা থেকে আমরা খাটসহ আসবাবপত্র বের করে দিয়েছি। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

খাস কামরার বিষয়ে পাবিপ্রবি ভিসি ড. রোস্তম আলীর সাথে কথা বলার জন্যে মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

শোভন-রাব্বানী বাদ, ছাত্রলীগের নতুন নেতা জয়-লেখক

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির পদ থেকে রেজওয়ানুল হক শোভন ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে গোলাম রাব্বানীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বোরকা ছেড়ে ‘বিদ্রোহী’ সৌদি তরুণীরা

৩৩ বছর বয়সী মাশায়েল একটি সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগে কাজ করেন। পাশাপাশি নিজের মতো করে চালিয়ে যাচ্ছেন মানবাধিকার রক্ষার লড়াই।

মসজিদ নির্মাণ কাজে বিএসএফের বাধা

ভারতীয় বিএসএফ নানা অজুহাতে নির্মাণ কাজে বাধা দেয়। জানালায় রঙিন গ্লাস লাগাতে বাধা দিলে আমরা সাদা গ্লাস লাগাতে শুরু করি।

মন্তব্য লিখুন...

Top