20/09/2019 , ঢাকা

খুন হওয়ার পাঁচ বছর পর মৃত ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আদালতে হাজির!


প্রকাশিত: 20/09/2019 18:27:05| আপডেট:

স্টার মেইল, ঢাকা: ছেলে আবু সাঈদ হারিয়ে গেছে বলে ২০১৪ সালে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা করেন মোহাম্মদ আজম। ওই সময়ে আবু সাঈদ ছিল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। মামলায় ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামিরা জানান সাঈদকে অপহরণের পর হত্যা করে লঞ্চ থেকে নদীতে ফেলে দেন তারা। সেই থেকে কারাগারে আছেন ওই ছয়জন।

ঘটনার পাঁচ বছরের মাথায় আদালতে হাজির করা হয়েছে খোদ ‘মৃত ব্যক্তি!’ সম্প্রতি পুলিশ জানতে পারে আবু সাঈদ বেঁচে আছে। আর তাকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ঢাকার পাঁচ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামসুন্নাহারের আদালতে সাঈদকে হাজির করা হয়। একই সঙ্গে সাঈদের বাবা মোহাম্মদ আজম ও মাহিনূর বেগমকেও আদালতে হাজির করা হয়। প্রতারণার মামলায় পুলিশ ওই তিনজনকেই গ্রেপ্তার করেছে।

২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল মোহাম্মদ আজম পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ছেলে হারিয়ে গেছে বলে। এরপর ছেলেকে না পাওয়ার পর তিনি অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলা করেন।

মামলার পরে পুলিশ আসগর আলী, মিলন, মো. সাইফুল ইসলাম হাওলাদার, সোনিয়া আক্তার, তার ভাই আফজাল হোসেন ও মো. শাহীনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর আসামিদের সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর সাইফুল ও আফজাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। স্বীকারোক্তিতে তারা জানান, আবু সাঈদকে অপহরণ করে হত্যার পর লাশ বরিশালগামী লঞ্চ থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেই সময় থেকে আসামিরা আবু সাঈদের হত্যাকারী হিসাবে কারাগারে কারাবরণ করেন। কিন্তু সম্প্রতি কেঁচো খুড়তে সাপ বেড়িয়ে এসেছে। জানা গেলো পাঁচ বছর আগে ‘মৃত’ সেই সাঈদ জীবিত আছে। সে মারা যায়নি বা অপহৃত হয়নি। পুলিশ তা জানতে পেয়ে সাঈদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে।

মিথ্যা মামলায় কারাগারে থাকা আসামিদের আইনজীবী মো. ওয়াহিদুজ্জামান শুনানি করে আদালতকে বলেন, ‘একটি ছেলে নিজ থেকে পালিয়ে যায়। সেখানে মিথ্যা অপহরণ মামলায় তিনজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে তাদের নির্যাতন করা হয়। দুজনকে দিয়ে মিথ্যা হত্যার স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। আজ সেই মৃত ছেলে জীবিত হয়ে আদালতে। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই (বর্তমানে ডেমরা থানায়) রুহুল আমিন নির্যাতন করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করেন। সে-ই মাস্টারমাইন্ড ছিল। রুহুল আমিন এবং তার পেছনে যারা কলকাঠি নাড়িয়েছে তাদের বিচার চাই।’

শুনানির সময় মিথ্যা অভিযোগের মামলায় দীর্ঘদিন জেল হাজতে থাকা মো. সাইফুল ইসলাম, সোনিয়া আক্তার ও তার ভাই আফজাল হোসেন আদালতে হাজির ছিলেন। নথি থেকে জানা যায়, তৎকালীন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ডিবির ধানমণ্ডি জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রুহুল আমিন। ২০১৫ সালের ১৫ জুন সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি। অভিযোগপত্রে আসগর আলী ও মিলনকে বাদ দিয়ে অপর চারজনকে আসামি করা হয়। এরপর ঢাকার পাঁচ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা নং-১০৮৪/২০১৮ হিসেবে বিচারাধীন আছে।

গত ৩০ আগস্ট পল্লবী থানাধীন একটি বাসা থেকে পুলিশ হারিয়ে যাওয়া আবু সাঈদসহ তার বাবা ও মাকে গ্রেপ্তার করে। তাদের আটকের পরে প্রতারণার মামলা করেন অপহরণ মামলার অন‌্যতম আসামি মোসা. সোনিয়া আক্তার।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র

শিক্ষিকা সাজেদা বেগম সকল শিক্ষার্থীদের কাছে প্রিয় একজন শিক্ষক। বর্তমানে সাজেদা বেগম টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার ছুটি মঞ্জুর করা হয়।

‘সসম্মানে’ চলে যান, জাবি ভিসিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায়

ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি: শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনও নালিশ শুনতে চাই না। নিজেদের ইমেজ বাড়াতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

মন্তব্য লিখুন...

Top