20/09/2019 , ঢাকা

কাঁদলেন শেখ হাসিনা


প্রকাশিত: 20/09/2019 17:47:54| আপডেট:

স্টার মেইল, ঢাকা: বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্মৃতিকাতর হয়ে কেঁদেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় নির্মম সেই হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

বক্তব্যে বারবার শেখ হাসিনাতে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে এবং চোখের জল মুছতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত অনেককে কাঁদতে দেখা যায়।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতীতেও বিভিন্ন সময় ১৫ আগস্টের নিষ্ঠুরতা বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনাকে কাঁদতে দেখা গেছে।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সুবেহ সাদিকের সময় যখন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে সপরিবারে ঘাতকের বুলেট বৃষ্টিতে নির্মমভাবে শহীদ হন স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তখন ভাগ্যক্রমে দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা এবং আরেক কন্যা শেখ রেহানা।

বঙ্গবন্ধু ছাড়াও ১৫ আগস্টে ঘাতকদের হাতে নিহত হন বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, এসবি অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, কর্নেল জামিল, সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক।

প্রায় একই সময়ে ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মণির বাসায় হামলা চালিয়ে শেখ ফজলুল হক মণি, তাঁর অন্তঃসত্তা স্ত্রী আরজু মণি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াতের বাসায় হামলা করে সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় বেন্টু খানও নিহত হন।

১৫ আগস্টের নির্মমতার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে কলঙ্কময় একটি দিন, ১৫ আগস্ট কালিমালিপ্ত একটি দিন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশে সর্বপ্রথম গুম-খুনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি বলেন, শুধু আমাদের দলের লোকদের হত্যা করা হয়েছিলো এমন নয়, সেনাবাহিনীর অফিসার যারা একটা সময় জাতির পিতার ডাকে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে যুদ্ধ করেছিলো তাদেরকেও একে একে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলো ওই খুনি জিয়াউর রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫’র পর ১৯টা শুধু ক্যু-ই হয়েছে। সেনাবাহিনী-বিমানবাহিনীর শত শত অফিসারকে হত্যা করেছিলো। শুধু তাই না, সেনাবাহিনীর হাজার হাজার সৈনিককে হত্যা করা হয়েছিলো। অনেকে হয়তো ছুটিতে থেকে জয়েন করেছে তাদের ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অনেকে হয়তো জানতেও পারেনি তাদের কেন হত্যা করা হচ্ছে, ডিফেন্ড করার সুযোগ দেওয়া হয়নি; গুলি করে হত্যা করেছে-ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘শোনা যেত জিয়ার রহমান নাকি কাটা চামচ দিয়ে খেতে খেতেই মৃত্যুদণ্ডের ফাইলে সই করতেন। ঢাকা কেন্দ্রেীয় কারাগারে ওই সময়ে যারা কয়েদি ছিলো তারা বলতে পারবে এক-এক রাতে ৮ জন ১০ জন করে জোড়ায় জোড়ায় ফাঁসি দিয়েছে। তাদের কান্নায় চিৎকারে আকাশ ভারি হয়ে উঠতো। আর এখন সেই বিএনপি গুম, খুনের কথা বলে!’

জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলো দাবি করে সরকার প্রধান বলেন, অনেক বিএনপি নেতা বলার চেষ্টা করেন, বিএনপি তো তখন প্রতিষ্ঠাই হয়নি, কী করে বিএনপি খুনি হলো। কিন্তু বিএনপি যার হাতে জন্ম, সেই জিয়াই যখন খুনি এবং শুধু খুনিই নন, তিনিই ইনডেমনিটি জারি করে খুনিদের রক্ষা করেছিলেন এবং বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন।

তিনি যোগ করেন, তাদের চরিত্রগুলোই তো খুনের, যেটা দেখা গেছে ২১ আগস্টে। জিয়ার ক্ষমতা দখলকে উচ্চ আদালতে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তাহলে তো বিএনপির জন্মই অবৈধ হয়ে যায়। যারা খুনিদের পুরস্কৃত করে, তারা খুনিদের দল হবে না কেন? এরা খুনির দল ছাড়া আর কী। তাদের জন্ম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে।

জিয়াউর রহমান খন্দকার মোশতাকের সহযোগি ছিলো দবি করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জীবনে কখনো কোনো ভয়ে ভীত হইনি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেটা বাস্তবায়ন করাই আমার সব সময়ের লক্ষ্য থেকেছে। আপনার একবার চিন্তা করে দেখেন, আমার বাবা মা ভাই বোনদের হত্যা করা হয়েছে; তাদের কোনো বিচার হয়নি, ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছিল। তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছিল। এটা ঠিক আমার বাবার ক্যাবিনেট মিনিস্টার থেকে অনেকেই এটার সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের সহযোগি ছিল ওই জিয়াউর রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া যে তাদের একান্ত সহযোগি এটাতে সন্দেহ থাকার কোনো কথা নেই। কারণ যাকে সবথেকে বিশ্বস্ত মনে করে তাকেই সেনাপ্রধান করা হয়। খন্দকার মোশতাক যখন নিজেকে অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে তখন জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান হিসেবে বেছে নিয়েছিল। জিয়াউর রহমান যদি এই ষড়যন্ত্রের সাথে লিপ্ত না থাকতো তাহলে মোশতাক কখনোই তাকে সেনাপ্রধান করত না।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

জিয়া-এরশাদকে রাষ্ট্রপতি বলা বৈধ নয়: প্রধানমন্ত্রী

জিয়াউর রহমান ও এইচএম এরশাদের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করে আদালতের রায়ের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা ‘বৈধ নয়’।

আবাসিক হোটেলে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে ধরা, অতঃপর

ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ৮ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে যৎসামান্য টাকা মেয়েকে বুঝিয়ে দিয়ে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

ইয়াবাসহ আওয়ামী লীগ নেতা ও তার সহযোগী গ্রেপ্তার

জালাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদক দ্রব্য বিক্রি করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার নিজ বাড়িতে ইয়াবা

মন্তব্য লিখুন...

Top