22/09/2019 , ঢাকা

এবারের নির্বাচন কি উৎসব নাকি উৎকন্ঠা?


প্রকাশিত: 22/09/2019 15:55:35| আপডেট:

আশরাফুল নয়ন: নির্বাচনের সময় যতই এগিয়ে আসছে, সহিংসতা ক্রমেই ততটা ভায়বহ রুপ নিচ্ছে। এতে বিরোধী দল ক্ষমতাসীন দল কেউই বাদ যাচ্ছে না। তবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পুলিশী ধরপাকড়ের মাধ্যমে দমন করার চেষ্টা হচ্ছে এমন অভিযোগ শুরু থেকে করে আসছে বিএনপি। আর এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা সহ ইসিকে বারবার জানানো হলেও তেমন কোন পরির্বতন এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি।

প্রতিক বরাদ্দের পর হতে লক্ষ্য করলে দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিনই প্রায় সারাদেশব্যাপী কোথাও না কোথাও ছোট বড় সহিংসতা আছেই। এর মধ্যে কোথাও আক্রান্ত হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মী আবার কোথাও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। তবে সচরাচর বিএনপি বেশী সহিংসতার স্বীকার হচ্ছে। তবে এরমধ্যে বেশ কয়েক জন আওয়ামীলীগ নেতা খুনের ঘটনাও ঘটেছে। আর বিএনপি নেতারা তো শুরু হতেই অভিযোগ করে চলেছে তাদের নেতার্কমীদের মিথ্যা ও গায়েবী মামলা দিয়ে আটক করছে পুলিশ। পুলিশ আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে কাজ করছে বলেও বিএনপির অভিযোগ। সবচেয়ে বড় কথা, এবারের নির্বাচনের প্রচারনার শুরু হতে এমন কোনও দিন নেই যে দিন কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।

প্রতিদিন টিভি ও পত্রিকায় খবর আছেই কোন না কোন স্থানে সহিংসতার, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার। এবারের নির্বাচনে আরও একটি নতুন বিষয় লক্ষ্য করা গেছে। অন্যান্য নির্বাচনে সহিংসতা কম বা বেশী যেটাই হোক কোন প্রার্থী এতে আক্রান্ত হয়নি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক জন প্রার্থীর উপর আক্রমনের খবর পাওয়া গেছে। যা অত্যান্ত দুঃখ জনক। আর বিষয়গুলো নিয়ে প্রার্থীরা তো বারবার স্ব-স্ব এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জানাচ্ছেন। অভিযোগে ফলাফল কি হচ্ছে সেটা বুঝা যাচ্ছে না, তবে বিএনপির প্রার্থীরা মিডিয়াতে বারবার অভিযোগ করে বলছে তাদের কোনও অভিযোগই আমলে নেওয়া হচ্ছে না। আর এর মধ্যেই গত ২৪ তারিখ হতে সেনা বাহিনী মাঠে নেমেছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা সেনাবাহিনী নামলে পরিস্থিতি এমনিতেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু সেনাবাহিনী নামার ৭২ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোন পরির্বতনই লক্ষ্য করা যায়নি।

কমেনি সহিংসতা, সংর্ঘষ, ধাওয়া- পালটা ধাওয়া,হামলার ঘটনা। সেনাবাহিনী নামার পরও দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। আর সেসব স্থানে সেনা সদস্যদের তেমন কোন কার্যক্রম এখনও চোখে পড়েনি। তবে তারা সহিংসতার স্থান সহ বিভিন্ন এলাকায় টহল দিয়েছে সেনা সদস্যরা। এতে সাধারন মানুষের মধ্যে কিছুটা আস্থা এসেছে। ফলে সহিংসতা বন্ধ না হলেও পরিস্থিতি অনেকটা নমনীয় হয়েছে। আশা করছি, দেশবাসীর অহংকার সেনাবাহিনী তাদের সঠিক অস্তিত্ব ধরে রেখে কাজ করে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেই সকল পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় আনবে।

তবে যাদের উপর দেশবাসীর সবচেয়ে বড় ভরসা সেই সেনাবাহিনী নামার পরও দুইটি বড় ঘটনা ঘটেছে। তা হল নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে ঢাকা-১ আসন নবাবগঞ্জে সাংবাদিকরা হামলার স্বীকার হয়ে ঘন্টাব্যাপী হোটেলের কক্ষে অবরুদ্ধ থাকতে হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহতসহ গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। অথচ সে সময় সাংবাদিকরা বারবার প্রশাসনের নিকট সহযোগিতা চেয়েও পায়নি। হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের তাণ্ডব চালিয়ে চলে যাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পৌঁছায়। এমন কি সেনা সদস্যদেরও সেখানে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এছাড়া ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক পর্যন্ত করতে পারেনি। তাছাড়া সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে চলাচলের উপর বিভিন্ন বিধি নিষেধের মধ্যে মোটরবাইক চালাতে দেওয়া যাবে না- এই বিষয় ইসিকে অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের দাবীর ভিত্তিতে ইসি মোটরসাইকেল চালাতে অনুমতি দিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তার অনেকটা অবসান ঘটেছে। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর নির্বাচন হবে এটাই সকলের প্রত্যাশা। কিন্তু নির্বাচনের শেষ মূহুর্তে এসে ইসির সঙ্গে বৈঠক ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বর্জন করায় দেশবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাছাড়া নির্বাচনের শুরু হতেই বিএনপি ঘোষনা দিয়েছে তারা ভোট ডাকাতি ঠেকাতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের রুখতে কেন্দ্র পাহারা দেবে। আর আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়েছে যেকোন মূল্যে তারা ভোট কেন্দ্রে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডব ঠেকাবে।

আর দীর্ঘ দশ বছর পর সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। সেজন্য একটি প্রশ্ন থেকেই যায় ‘এবারের নির্বাচন আসলে কি উৎসব নাকি উৎকন্ঠা?’

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিষ্ট
আহবায়ক, নওগাঁ সাহিত্য পরিষদ।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

ভোটাধিকার প্রয়োগে নারীদের ভূমিকা

আশ্চর্য হলেও সত্য যে, বিংশ শতাব্দীর আগে কোনো দেশেই নারীদের ভোটাধিকার ছিল না। তবে উনিশ শতকের শেষদিকে এসে ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, সুইডেন, কিছু অস্ট্রেলীয় উপনিবেশ

জবিতে ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম, সাংবাদিক হেনস্তা

স্টার মেইল, জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট-১ (বিজ্ঞান শাখা) এর ভর্তি পরীক্ষায় সাংবাদিকদের হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাকির বিরুদ্ধে। জানা যায়, বিকালের শিফটে পরীক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার যানজটের কারণে দেরিতে উপস্থিত হলে প্রক্টরিয়াল বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হলে প্রবেশের নির্দেশনা থাকলেও তা তোয়াক্কা করেনি আইন বিভাগের শিক্ষকরা। আইন […]

স্টামফোর্ডে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গল্প আড্ডা

স্টার মেইল, স্টামফোর্ড: রাজধানীর স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গল্প আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নানা বিষয়ে আলোকপাত করেন অনুষ্ঠানের মূল অতিথি দেশের আলোচিত অনুসন্ধানী সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বাবু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ছাইফুল ইসলাম মাছুম। উপস্থাপনা করেন ফোরামের অর্থ সম্পাদক হাসান […]

মন্তব্য লিখুন...

Top