20/09/2019 , ঢাকা

এক মিনিটে খালেদা জিয়াকে কী বললেন মির্জা ফখরুল?


প্রকাশিত: 20/09/2019 18:11:15| আপডেট:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আদালতে। কিন্তু আদালত অনুমতি না দেওয়ায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে সেখানে দেখা হয়নি মির্জা ফখরুলের। তবে খালেদাকে আদালত থেকে বের করে নেওয়ার সময় এক মিনিটের মতো কথা বলার সুযোগ পান বিএনপি মহাসচিব।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, ওই ১ মিনিট সময়ের মধ্যেই খালেদা জিয়াকে সংলাপ বিষয়ে বার্তা দিতে পেরেছেন মির্জা ফখরুল।

এর আগে বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে গাড়ীতে করে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।

সেখান থেকে সারাসরি তাকে কারাগারের ভিতরের আদালতে একটি হুইল চেয়ারে করে হাজির করা হয়। মামলার শুনানি চলার সময় দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আদালতে হাজির হন। তিনি আদালত কক্ষে ঢুকে একটি চেয়ারে বসে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় থাকেন।

বেলা সোয়া ১টায় মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে আদালত কক্ষে ৩০ মিনিট মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার অনুমতি চেয়ে বিচারকের কাছে আবেদন করেন আইনজীবী সাউল্লাহ মিয়া ও মির্জা ফখরুল।

ওই সময় বিচারক বলেন, ‘এটা আমার এখতিয়ারের বাইরে। আপনারা দেখা করবেন না কি-করবেন এ বিষয়ে আমি কোনো আদেশ দিতে পারব না। এ ছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মামলার কেউ না।’

তখন আইনজীবী সাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘তাহলে আমাকে একা অনুমতি দিন।’ তখন বিচারক বলেন, ‘এটাও আমি দিতে পারব না।’ ওই সময় সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘এর আগে আমরা অন্যান্য আদালতে অনেকবারই দেখা করার অনুমতি পেয়েছি।’ উত্তরে বিচারক বলেন, ‘আইন আমাকে সুযোগ দেয়নি। আমি দিতে পারব না’

এরপর বিচারক মামলার পরবর্তী তারিখ ঠিক করে নেমে যাওয়ার সময়ই মির্জা ফখরুল পুলিশ বেষ্টিত খালেদা জিয়ার সামনে যান এবং ১ মিনিটের মতো সময় কথা বলার সুযোগ পান। এরপরই খালেদা জিয়াকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে কারাগারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে মির্জা ফখরুল এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় অন্যায়ভাবে জোর করে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, পিজি হাসপাতালে যারা খালেদা জিয়ার মেডিকেলের দায়িত্বে ছিলেন, তারা তাকে ছাড়পত্র দেননি এবং তারা বলেছেন, “তিনি খুব অসুস্থ। এ অবস্থায় তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়, তার চিকিৎসা চলছে”।’

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা ছাড়পত্র দিয়েছেন বলে আমরা জানি না। শুনেছি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে কাউকে দিয়ে ছাড়পত্র লিখিয়ে নিয়েছে। এটা সম্পূর্ণভাবে আনইথিকেল কাজ।’

ফখরুল আরও বলেন, ‘তাকে (খালেদা জিয়া) দেখেছি, তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। হুইল চেয়ারে করে তাকে নিয়ে আসা হয়েছে। হুইল চেয়ারেও তিনি ঠিকমতো বসতে পারছেন না। আমরা আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েও দেখা করার অনুমতি পাইনি।’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে মির্জা ফখরুলের আদালতে ১ মিনিট কথার বিষয়বস্তু সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার এক আইনজীবী জানান, ‘সংলাপের বিষয়ে ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে যা বার্তা দেওয়ার তা ১ মিনিটেই মির্জা ফখরুল ইসলাম দিয়ে দিয়েছেন।’

** নির্ভরযোগ্য খবর জানতে ও পেতে স্টার মেইলের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন: Star Mail/Facebook


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে দলের নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল

দাঁতের চিকিৎসা নিলেন খালেদা জিয়া

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) দাঁতের চিকিৎসা নিয়েছেন। গত

খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরামর্শ করে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়: ফখরুল

কারাবন্দী খালেদা জিয়া প্রতি সপ্তাহে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ম্যাসেজ (বার্তা) পাঠান বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি,

মন্তব্য লিখুন...

Top